Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে সিগারেটের উপর কর বৃদ্ধির পর বড় সিদ্ধান্ত নিল দেশের অন্যতম প্রধান FMCG সংস্থা ITC Limited। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা আপাতত কর বৃদ্ধির মাত্র ৫০% থেকে ৬০%-ই গ্রাহকদের ওপর চাপিয়েছে। বাকি অংশের দাম বৃদ্ধি ধীরে ধীরে, সময় নিয়ে কার্যকর করা হবে। এই কৌশলকে বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন “স্ট্যাগার্ড প্রাইসিং স্ট্র্যাটেজি” বা ধাপে ধাপে মূল্যবৃদ্ধি। কারণ একবারে পুরো করের বোঝা চাপালে বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। বিশেষ করে সিগারেটের মতো পণ্যে হঠাৎ দাম বাড়লে বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সরকারি নীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে সিগারেটের উপর আবগারি শুল্ক ও অন্যান্য করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে সংস্থাগুলির সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ—একদিকে মুনাফা ধরে রাখা, অন্যদিকে বিক্রি বা ভলিউম যাতে না কমে যায় তা নিশ্চিত করা। ITC Limited-এর এই ধাপে ধাপে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আর সেগুলি হলো,
- প্রথমত, গ্রাহকদের ওপর হঠাৎ চাপ কমানো। একবারে বড় মূল্যবৃদ্ধি হলে অনেকেই সিগারেটের ব্যবহার কমাতে পারেন বা বিকল্প সস্তা পণ্যের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
- দ্বিতীয়ত, বেআইনি বা অবৈধ সিগারেটের বাজারের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম বেশি বেড়ে গেলে গ্রাহকদের একটি অংশ সস্তা, কর ফাঁকি দেওয়া পণ্যের দিকে চলে যেতে পারেন। এতে বৈধ কোম্পানির বিক্রি কমে যায় এবং সরকারের রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- তৃতীয়ত, বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা। অন্যান্য সিগারেট কোম্পানিও একই ধরনের চাপে রয়েছে। ফলে একবারে বেশি দাম বাড়ালে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত কোম্পানিগুলিকে পুরো করের প্রভাব সামলাতে গেলে মোটামুটি ২০% থেকে ৪০% পর্যন্ত দাম বাড়াতে হতে পারে। তবে সেই বৃদ্ধি একবারে নয়, বরং ধাপে ধাপে আনা হবে—যাতে বাজারে ধাক্কা কম লাগে। এর ফলে স্বল্পমেয়াদে ITC Limited-এর মার্জিন কিছুটা চাপে থাকতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই কৌশল কোম্পানিকে স্থিতিশীল বিক্রি বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়া, বিনিয়োগকারীরাও এই পদক্ষেপকে নজরে রাখছেন। কারণ সিগারেট ব্যবসা এখনও ITC Limited-এর আয়ের বড় অংশ জোগায়। ফলে এই খাতের যেকোনো পরিবর্তন সরাসরি কোম্পানির শেয়ার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।




