Article By – আস্তিক ঘোষ

দেশের প্রথম পরিকল্পিত শিল্প শহর ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর। টাটা গ্রুপের কারণে এই শহর টাটানগর নামেও পরিচিত। এবার জামশেদপুর থেকে 2,000 কিলোমিটার দূরে একটি নতুন টাটানগর স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। তামিলনাড়ুর শিল্প শহর হোসুর। 2020 সালে হোসুরের কাছে থিমজেপল্লী গ্রামে প্ল্যান্ট স্থাপন করেছিল টাটা ইলেক্ট্রনিক্স। আইফোন এনক্লোজার একত্রিত করার জন্য দেশের একমাত্র প্ল্যান্ট এটি। আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনে এটিই হবে হোসুরে সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী প্ল্যান্ট।
হোসুরকে জামশেদপুর শহর দুটির মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। তবে জামশেদপুরে ফোকাস শুধুমাত্র ইস্পাতের দিকে। অন্যদিকে, হোসুরে সমস্যাটি কোনও একটি ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। তামিলনাড়ুর শিল্পমন্ত্রী টিআরবি রাজা এই প্রসঙ্গে বলেন, “জামশেদপুরের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। তবে আমি মনে করি হোসুর এর চেয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে। টাটার প্ল্যান্টের কাছে এত বেশি পরিকাঠামোর কাজ চলছে যে, জামশেদপুরের সঙ্গে এর তুলনা স্বাভাবিক। কিন্তু ইস্পাতের মতো কোনো একটি উৎপাদন খাতে আমাদের শুধু জোর দিলে হবে না, আমাদের ফোকাস একাধিক খাতে। রাজ্য সরকার এটিকে একটি আইটি হাব হিসাবে বিকাশ করতে চায়। কারণ বেঙ্গালুরু থেকে মাত্র 40 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হোসুর। যখন পরিকাঠামো প্রস্তুত হবে এবং কোম্পানিগুলো এখানে আসবে, তখন কোম্পানিগুলো এর গুরুত্ব জানতে পারবে।”
হোসুরে দ্রুত সুবিধা সম্প্রসারণ করছে টাটা ইলেকট্রনিক্স। দুটি নতুন ইউনিট স্থাপন করা হচ্ছে এবং কর্মচারীদের জন্য ঘরও নির্মাণ করা হচ্ছে। আইফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপল নির্ভরতা কমিয়ে আনছে চিনের ওপর। ফক্সকন এবং টাটা ইলেকট্রনিক্সের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারতে উৎপাদন সম্প্রসারণ করছে অ্যাপেল। কর্ণাটকে উইস্ট্রনের সুবিধাও কিনেছে টাটা। এই প্রসঙ্গে তামিলনাড়ুর শিল্পমন্ত্রী টিআরবি রাজা বলেন, হোসুরের অন্যতম বৃহত্তম নিয়োগকর্তা হবে টাটা ইলেকট্রনিক্স। মানুষ এখানে মোটা বেতনে কাজ করবে। তারা প্রচুর ব্যয় করবে। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে।
টিভিএস, টাইটান, অশোক লেল্যান্ডস, আথার এবং ওলা সহ অনেক কোম্পানির ইউনিট হোসুরে রয়েছে। এখানে বিমানবন্দর নির্মাণেরও ঘোষণা করা হয়েছে। ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অরূপ কে চ্যাটার্জি বলেন, হোসুর এবং জামশেদপুরের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। কিন্তু জামশেদপুর একটি ইস্পাত শহর, যার নিজস্ব স্বতন্ত্র মেজাজ রয়েছে। হোসুরে অবশ্য তার পুনরাবৃত্তি হতে পারে না। জামশেদপুরে জল ও বিদ্যুতের অভাব না থাকলেও কিন্তু হোসুরের ক্ষেত্রে তা নয়। তবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে হোসুর আরও অনেক এগিয়ে যেতে পারে। টাটার প্ল্যান্টকে ঘিরে অনেক কার্যক্রম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এই প্ল্যান্টে 20,000 মানুষ কাজ করে।





