Article By – সুনন্দা সেন

ভারত ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বিনিয়োগের নতুন ঢেউয়ের মাঝে রেকর্ড ১৩৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। প্রযুক্তি, উৎপাদন, সেমিকন্ডাক্টর, অটোমোবাইল, এনার্জি, পরিকাঠামো সহ সব ক্ষেত্রেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানি তাদের বড় প্রকল্পের জন্য ভারতকে বেছে নিচ্ছে। এই সাফল্যকে ভারতের অর্থনৈতিক নীতির শক্তি ও বাজারের বৃদ্ধির গতির ওপর বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রতিশ্রুত বিনিয়োগের বড় অংশ এসেছে বৈশ্বিক টেক জায়ান্টদের কাছ থেকে। গুগল, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, সবাই ভারতকে আগামী দশকের সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল ডিজিটাল বাজার হিসেবে দেখছে।
মাইক্রোসফট ইতিমধ্যেই ভারতে AI ও ক্লাউড অবকাঠামোতে বহু-বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে, যা দেশের টেক ইকোসিস্টেমে নতুন গতি আনবে। একইভাবে গুগল ও অ্যামাজন ক্লাউড ডেটা সেন্টার ও ডিজিটাল পরিষেবায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ভারতে ম্যানুফ্যাকচারিং শক্তিশালী করার সরকারি উদ্যোগের কারণে সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনেও এসেছে বড় প্রতিশ্রুতি। টাটা গ্রুপের সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প যেখানে ইন্টেল বড় কাস্টমার হিসেবে যুক্ত হয়েছে, দেশের চিপ ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে নতুন অধ্যায় খুলেছে। এছাড়া ফক্সকন, ভিনফাস্ট-এর মতো কোম্পানিও ভারতে বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা করেছে, যা ইলেকট্রিক ভেহিকল ও কম্পোনেন্ট উৎপাদনকে আরও গতিশীল করবে।
এছাড়া ভারতের ২০২৫ সালের রেকর্ড ১৩৫ বিলিয়ন ডলারের FDI প্রতিশ্রুতি দেশের অর্থনীতির জন্য একাধিক ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এটি প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা ভারতের নীতি, বাজারের বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার প্রতি আগের চেয়ে অনেক বেশি আস্থাশীল। প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, উৎপাদন, ডেটা সেন্টার ও অটোমোবাইলের মতো উচ্চ-প্রযুক্তি খাতে বড় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেখাচ্ছে যে ভারতের ডিজিটাল ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি আগামী বছরগুলোতে আরও দ্রুত প্রসারিত হবে। এই পুঁজি প্রবাহের ফলে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে, বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং রফতানি সক্ষমতা শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী বিনিয়োগ প্রবাহ ভারতের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল ভিত্তি দেবে এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ভারতের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।




