Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড আগামী কয়েক বছরে গ্লোবাল আইফোন উৎপাদনের প্রায় ৩০% অংশ ভারতে স্থানান্তর করতে পারে বলে আশাবাদী ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিশ্লেষকরা জানাচ্ছে। বর্তমানে ভারতের আইফোন উৎপাদনের হার ইতিমধ্যেই প্রায় ২০%-এর কাছাকাছি এবং উৎপাদন -সম্পর্কিত ইনসেনটিভ (PLI) ও সহায়ক নীতির কারণে তা আরও বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অ্যাপলের নীতির কারণে তা আরও বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অ্যাপলের পরিকল্পনা যদি সফল হয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের প্রায় এক তৃতীয়াংশ আইফোন ভারতের বিভিন্ন কারখানায় তৈরি হতে পারে।
সরকারি একটি উৎস বলছে, অ্যাপল ভারতে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসবে না, এমনকি মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক রায় আইফোন উৎপাদন কেন্দ্র পরিবর্তনের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে তারা মনে করছেন না। চীন -কেন্দ্রিক উৎপাদন থেকে ভারতে বড় মাত্রায় স্থানান্তর ঘটছে। এমন পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং দেশকে প্রযুক্তি উৎপাদনের একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। তবে চীন ও ভারতে উৎপাদিত আইফোনগুলোই এখন একই শুল্কহীন অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা যাবে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত মোট আইফোন উৎপাদনের প্রায় ২০% অংশ তৈরি করেছিল এবং বিশ্লেষকরা মনে করেন যে PLI-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় এটা ২৫%-এ পৌঁছাতে পারে। পরবর্তী এক-দুই বছরের মধ্যে আরও বৃদ্ধি হলে উৎপাদনের এই অংশ ৩০%-এর কাছাকাছি বা তারও উপরে যেতে পারে বলে আশা জাগাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আইফোন উৎপাদন বাড়ায় ভারতের জন্য অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই সুবিধা হচ্ছে। PLI-এর আওতায় স্থানীয় অংশ নির্মাতাদের উন্নয়ন ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির ফলে দেশের উৎপাদন গতি আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে।
অ্যাপল শুধু উৎপাদন বাড়াচ্ছে তাই নয়, বরং তাইর সাথে সাথে ভারতের iPhone সরবরাহ শৃঙ্খল গ্লোবাল স্তরে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। ভারতের উৎপাদিত আইফোনগুলোর বড় অংশ রপ্তানি হয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য বাজারে, যা দেশটিকে স্মার্টফোন শিল্পে বিশাল গ্লোবাল কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় উৎপাদন-শক্তি বৃদ্ধি লাভ করলে অ্যাপলের জন্য উৎপাদন ব্যয় কমতে পারে এবং দীর্ঘ মেয়াদে গ্রাহকদের জন্য আইফোনের দাম আরও স্থিতিশীল থাকতে পারে, যদিও তা সরাসরি কমবে কি না তা সময় বলবে।




