Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের প্রযুক্তি খাতে আজ এক বড় ঘোষণা এসেছে। বিশ্বখ্যাত টেক জায়ান্ট Microsoft জানিয়েছে, তারা আগামী চার বছরে ভারতে ১৭.৫ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ১.৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করবে। এই বিনিয়োগ Microsoft-এর এশিয়ায় করা সবচেয়ে বড় বিনিয়োগগুলোর মধ্যে একটি এবং কোম্পানির প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলার ভাষায়—“ভারতকে AI-নির্ভর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার” একটি বড় পদক্ষেপ। Microsoft জানিয়েছে, এই তহবিলের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় হবে দেশের AI ও ক্লাউড অবকাঠামো তৈরি, এবং ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণে। হায়দ্রাবাদে তারা একটি নতুন হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার তৈরি করছে, যা ২০২৬ সালের মধ্যেই চালু হওয়ার কথা।
পাশাপাশি চেন্নাই, পুণে এবং হায়দ্রাবাদের বিদ্যমান ডেটা সেন্টারগুলোকেও আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে ভারত দ্রুত AI-ভিত্তিক সেবা, অ্যাপ্লিকেশন এবং ডেটা প্রসেসিং ক্ষমতায় বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। তবে Microsoft-এর এই বিনিয়োগ কেবল অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা ঘোষণা করেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে কোম্পানি প্রায় ২ কোটি ভারতীয়কে AI, ক্লাউড এবং ডিজিটাল দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেবে। এতে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, এবং যুবসমাজ থেকে শুরু করে পেশাজীবী প্রায় সব ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। ইতিমধ্যেই তাদের চলমান স্কিলিং প্রোগ্রামে লাখ লাখ মানুষ প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
এছাড়াও, Microsoft কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বিভিন্ন জনসেবা প্ল্যাটফর্মে AI যুক্ত করতে—যেমন e-Shram, National Career Service (NCS) এবং অন্যান্য ডিজিটাল সেবা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘোষণা ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য একটি বড় বার্তা। Microsoft-এর এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকে দেখাচ্ছে যে AI-ভিত্তিক প্রযুক্তি এবং ক্লাউড বাজারে ভারত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শুধু IT খাতই নয়, উৎপাদন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি—সবখানেই AI-র ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিনিয়োগ কর্মসংস্থান বাড়াবে, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করবে, এবং ভারতকে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রযুক্তি-মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাবে।




