Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের অর্থনীতর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল পরিষেবা রপ্তানি (Service Expert), বিশেষ করে IT ও প্রযুক্তি পরিষেবা। বর্তমানে এই খাত থেকেই ভারত প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলারের পরিষেবা বাণিজ্য সারপ্লাস অর্জন করেছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর দ্রুত অগ্রগতি এই সাফল্যকে নতুন এক পর্যায় এনে দাঁড় করিয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে ভারত বিশ্বজুড়ে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, IT সাপোর্ট, টেস্টিং, ডাটা প্রসেসিং এবং ডিজিটাল পরিষেবা সরবরাহের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। আর ভারতের প্রযুক্তি ও IT পরিষেবা রপ্তানির মূল্য এখন বার্ষিক ভিত্তিতে প্রায় ২০০ থেকে ২১০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের পরিষেবা বাণিজ্য উদ্বৃত্তের প্রধান উৎস।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের পরিষেবা বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত ছিল প্রায় ১৮৮ বিলিয়ন ডলার। যা দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, AI প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি ভারতের ঐতিহ্যগত আউটসোর্সিং মডেলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আগে যে কাজগুলো করার জন্য বড় বড় সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার দলের প্রয়োজন হতো সেগুলোর অনেকটাই এখন AI দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে IT পরিষেবা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন করে কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
গত কয়েক বছরে অনেক বড় IT সংস্থা কর্মী নিয়োগ কমিয়েছে। বিশেষ করে ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কিছু ক্ষেত্রে নতুন কর্মীদের যোগদানও স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী চার বছরের মধ্যে AI-এর কারণে ভারতের IT ইন্ডাস্ট্রির আয়ে প্রায় ৯% থেকে ১২% পর্যন্ত চাপ পড়তে পারে। যদি কোম্পানিগুলো দ্রুত নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারে। তবে এই পরিবর্তনের মধ্যেও সুযোগ রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, AI সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এটি ভারতের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে। তবে আগামী দিনে প্রযুক্তি বিনিয়োগ, দক্ষতার উন্নয়ন এবং নতুন ব্যবসায়িক মডেলের উপর নির্ভর করবে AI খাত।
বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে AI ভারতের জিডিপিতে প্রায় ৫৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন করতে পারে। এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়—একদিকে AI পুরনো আউটসোর্সিং মডেলকে চ্যালেঞ্জ করছে, অন্যদিকে একই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের নতুন অর্থনৈতিক সুযোগও তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ বলা যায় যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ভারতের ১৯০ বিলিয়ন ডলারের পরিষেবা বাণিজ্য উদ্বৃত্ত এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।




