Article By – সুনন্দা সেন

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন পদক্ষেপের কথা ভাবছে ভারত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস বহনকারী জাহাজগুলির নিরাপত্তা বাড়াতে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US)-এর সামুদ্রিক সহায়তা নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ‘স্ট্রেট অফ হরমুজ’ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই সরু জলপথটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট, যার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে যায়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিলে তেল পরিবহণ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যহত হতে পারে।
ভারত বিশ্বের তৃতীয় তেল আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে একটি। দেশের মোট অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫% বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এই আমদানির একটি বড় অংশই আসে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে। ফলে ওই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার পশ্চিম এশিয়া থেকে জ্বালানি বহনকারী কমার্শিয়াল শিল্পগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে US-এর সহযোগিতার মাধ্যমে এই জাহাজগুলিকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। যদি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, তাহলে জ্বালানি পরিবহন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন বা বাধা ঘটতে পারে। এছাড়া তেলের দাম বেড়ে গেলে তার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে। ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। কারণ তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ, শিল্প উৎপাদন (Industrial Production) এবং সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এই কারণেই বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।




