Article By – সুনন্দা সেন

আমদাবাদে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার পর আর্থিক ও পরিচালনাগত দিক থেকে বড়সড় চাপে পড়েছে Air India। বিমান সংস্থার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্ঘটনার জেরে চলতি আর্থিক বছরে এয়ার ইন্ডিয়ার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। এটি সংস্থার ইতিহাসে অন্যতম বড় বার্ষিক ক্ষতি হিসেবে উঠে আসতে চলেছে। প্রসঙ্গত, গুজরাটের আমেদাবাদের কাছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই দেশের অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা তদন্ত শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল ক্ষতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি ও বিমানের বিমা সংক্রান্ত জটিলতা। দ্বিতীয়ত, যাত্রী ও তাঁদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ দিতে হতে পারে সংস্থাকে। তৃতীয়ত, দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা পর্যালোচনা ও অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বহু বিমানের উড়ান বন্ধ রাখা হয়েছে, যা রাজস্বে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এর পাশাপাশি, দুর্ঘটনার ফলে যাত্রীদের আস্থা হারিয়ে যাওয়ায় টিকিট বুকিংয়েও প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—উভয় রুটেই যাত্রী সংখ্যা সাময়িকভাবে কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে এয়ার ইন্ডিয়ার আয়ে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, টাটা গ্রুপের অধীনে আসার পর এয়ার ইন্ডিয়াকে নতুন করে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছিল। সাথে আধুনিকীকরণ, পরিষেবা উন্নয়ন এবং নতুন রুট চালুর মাধ্যমে সংস্থাকে লাভজনক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমদাবাদের এই দুর্ঘটনা সেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বড় ধাক্কা দিল বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল ক্ষতি সামাল দিতে টাটা গ্রুপকে অতিরিক্ত মূলধন ঢালতে হতে পারে। পাশাপাশি, খরচ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোর ওপর আরও জোর দিতে হবে। এছাড়া দুর্ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, যাত্রী নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সমস্ত উড়ান ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




