Article By – সুনন্দা সেন

২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষে ভারতের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানতকারীদের সুরক্ষায় বড় সাফল্য মিলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ৯৭%-এরও বেশি এখন ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্সের আওতায় রয়েছে। এর ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও মজবুত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স অ্যান্ড ক্রেডিট গ্যারান্টি কর্পোরেশন বা DICGC-এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ব্যাংকে একজন আমানতকারী সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা সুরক্ষার সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন।
সেভিংস, কারেন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট (FD) ও রেকারিং ডিপোজিট সহ সব ধরনের যোগ্য আমানতই এই বিমার আওতায় পড়ে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষে বিমাকৃত অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়ার মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে জনধন যোজনা, ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসার এবং গ্রামীণ ও অর্ধশহরাঞ্চলে ব্যাংকিং পরিষেবার বিস্তার। নতুন খোলা অ্যাকাউন্টগুলির প্রায় সবই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্সের আওতায় আসায় এই অনুপাত দ্রুত বেড়েছে। ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যার দিক থেকে যদিও ৯৭%-এর বেশি অ্যাকাউন্ট বিমাকৃত, তবে মূল্যের বিচারে এখনও সব আমানত পুরোপরি সুরক্ষিত নয়। বড় অঙ্কের ডিপোজিটের ক্ষেত্রে বিমার সীমা অতিক্রম হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন যে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত আমানতকারীদের বড় অংশের সঞ্চয় এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকছে। রিজার্ভ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের মতে, ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এটি ব্যাংক সংকটের সময়ে আতঙ্ক কমাতে সাহায্য করে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করে। তাই বলা চলে যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ ৯৭%-এরও বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বিমার আওতায় আসা ভারতীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আবার বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যত যদি বিমার অঙ্ক বাড়ানো হয়, সেক্ষেত্রে আমানতকারীদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।




