Article By – সুনন্দা সেন

একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। ভারতীয় পণ্যের উপর যুক্তরাষ্ট্র যে শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপ করে, তার প্রধান আর্থিক বোঝা বহন করছেন মূলত আমেরিকার ভোক্তারা। ভারতীয় রপ্তানিকারকরা নয়। অর্থাৎ শুল্ক বাড়লেও তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ভারতের রপ্তানির উপর যতটা পড়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা ততটা পড়ছে না। গবেষণায় বলা হয়েছে,যখন ইউনাইটেড স্টেটস সরকার ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে, তখন সেই বাড়তি খরচ আমদানিকারক সংস্থাগুলি শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যোগ করে দেয়। এর ফলেই মার্কিন বাজারে সেই সব পণ্যের দাম বেড়ে যায়।
এদিকে যেমন মার্কিন ভোক্তারা অতিরিক্ত মূল্য দিতে বাধ্য হন, অন্যদিকে ইন্ডিয়া থেকে রপ্তানি করা বহু পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্তাগুলি তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক দাম ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা বিকল্প বাজার খুঁজে নিয়েছে বা উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শুল্কের প্রভাব সামলে নিয়েছে। ফলে ট্যারিফের ধাক্কা সরাসরি ভারতীয় রপ্তানিকারকদের উপর পড়েনি। গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, রেডিমেড ড্রেস, চামড়াজাত পণ্য, ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী এবং কিছু ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা স্পষ্ঠ। এসব পণ্যের চাহিদা যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায়, দাম বাড়লেও ভোক্তারা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে শুল্কের অর্থ কার্যত যাচ্ছে আমেরিকার ভোক্তাদের পকেট থেকেই।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ফলাফল মার্কিন ট্যারিফ নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। শুল্ক আরোপের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি পণ্যের আমদানি কমানো এবং ঘরোয়া উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, আমদানির পরিমাণ খুব একটা কমেনি, বরং ভোক্তা মূল্য বেড়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপ বাড়ছে। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই গবেষণা কিছুটা স্বস্তির। কারণ, এটি প্রমাণ করছে যে বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেও ভারতীয় রপ্তানি খাত একটি নির্দিষ্ট মাত্রার স্থিতিস্থাপকতা দেখাতে পারছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে শুল্ক যুদ্ধ চলতে থাকলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে রপ্তানি ও বিনিয়োগের উপর পড়তে পারে।




