Article By – সুনন্দা সেন

দেশের বর্ষার প্রবেশ দেরিতে হওয়ায় কৃষি বিশেষজ্ঞরা ধান চাষের ক্ষেত্রে ক্ষতির আশঙ্কা করছিলেন। পাশাপাশি বৃষ্টির হার কম থাকায় ধান সহ ডাল ও তৈলবীজের উৎপাদন নিয়ে ঘনীভুত হয়েছিল শঙ্কা। কারণ পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে চাষীদের রোপন কাজে বাধা আসার সম্ভাবনা ছিল উচ্চ। তবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা তথ্য বলছে, ধান উৎপাদনের অঞ্চলে ভালো বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা গেছে। যার দরুণ ধান চাষের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি মন্ত্রকের গণনা ও অনুমান অনুযায়ী ধানের পাশাপাশি ডাল ও তৈলবীজের উৎপাদন এই মরশুমে বৃদ্ধি পেয়েছে। অবশ্য তেমন ফলন দেখা যায়নি তুলো চাষে।
কৃষিমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ২০২৪ সালে ধান চাষের জমির পরিমাণ ৪.২৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ১২ আগস্ট পর্যন্ত দেশের কৃষি জমিতে ধানের রোপণের পরিমাণ ৩৩.১৮ মিলিয়ন হেক্টরে পৌঁছেছে। যা গত বছরের মোট ৩১.৮২ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে চাষের তুলনায় অনেকটা বেশি। কৃষিমন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য আরও জানিয়েছে যে দেশের ডাল চাষের পরিমাণ কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মরশুমে দেশের ১১.৭৪ হেক্টর জমিতে ডাল চাষ করা হয়েছে। যা একবছর আগে একই সময় ১১.০১ মিলিয়ন হেক্টর ছিল।
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে যে আবহাওয়া দপ্তরের বৃষ্টির পূর্বাভাসের উপর ভিত্তি করে ধান ও ডালের চাষ গতি পেয়েছে। এক বছরের তুলনায় ধান ও ডালের চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে কৃষকরা। এছাড়াও চলতি বছরে তৈলবীজের চাষে বিপুল বৃদ্ধি বা হ্রাস দেখতে পাওয়া না গেলেও খারিফ মরশুমে সামান্য গতি দেখতে পাওয়া গেছে। কৃষিমন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এই বছর খারিফ মরশুমে ১৮.৩৭ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে তৈলবীজ চাষ করা হয়েছে। যা তার আগের বছরে ১৮.২২ মিলিয়ন হেক্টরের তুলনায় মাত্র ০.১৫ মিলিয়ন হেক্টর বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট পর্যন্ত ধান, ডাল ও তৈলবীজের চাষে বৃদ্ধির সাক্ষী হয়েছে ভারত। তবে এই খারিফ মরশুমে মাত্র ১১.০৫ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করেছে। যেখানে গত বছর একই সময়ে দেশে ১২.১২ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়েছিল। বার্ষিক হার অনুযায়ী এক বছরের তুলনায় তুলার রোপণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।





