Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের টেলিকম ও ডিজিটাল পরিষেবা খাতে বড় ঘোষণা সামনে এসেছে। দেশের অন্যতম শীর্ষ টেলিকম সংস্থা ভারতী এয়ারটেল (Bharti Airtel) তাদের ডিজিটাল লেন্ডিং ব্যবসা দ্রুত বাড়াতে প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কোম্পানি শুধু টেলিকম নয়, আর্থিক পরিষেবা ও ফিনটেক সেক্টরেও নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাইছে। সূত্রের খবর, এই বিনিয়োগ মূলত কোম্পানির ডিজিটাল আর্থিক প্ল্যাটফর্ম এয়ারটেল ফাইন্যান্স (Airtel Finance)-এর সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে।
এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকদের দ্রুত ব্যক্তিগত ঋণ, ছোট ব্যবসার ঋণ, বীমা এবং অন্যান্য আর্থিক পরিষেবা প্রদান করা হয়। নতুন বিনিয়োগের ফলে প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নত হবে এবং ঋণ বিতরণের ক্ষমতা অনেক বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে ডিজিটাল লেন্ডিং বাজার এখন দ্রুত বাড়ছে। স্মার্টফোনের ব্যবহার বেড়েছে, অনলাইন পেমেন্ট এখন সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে, আর সেই সঙ্গে মানুষ দ্রুত ও কাগজবিহীন ঋণের দিকে ঝুঁকছে।
এই সুযোগকে কাজে লাগাতেই এয়ারটেল, তাদের বিশাল মোবাইল গ্রাহকভিত্তিকে ব্যবহার করে ফিনটেক ব্যবসা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। বর্তমানে Airtel-এর কোটি কোটি মোবাইল ও ডেটা গ্রাহক রয়েছে। এই বড় গ্রাহকভিত্তির তথ্য বিশ্লেষণ করে কোম্পানি সহজে ক্রেডিট যোগ্যতা যাচাই করতে পারে এবং দ্রুত ঋণ অনুমোদন দিতে পারে। ফলে ব্যাংকের তুলনায় কম সময়ে লোন দেওয়া সম্ভব হয়, যা ডিজিটাল লেন্ডিং ব্যবসায় বড় সুবিধা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই বিনিয়োগ কোম্পানির জন্য ভবিষ্যতে বড় আয়ের উৎস তৈরি করতে পারে। টেলিকম পরিষেবায় প্রতিযোগিতা বাড়লেও ডিজিটাল ফাইন্যান্স সেক্টর এখনও দ্রুত বাড়ছে। তাই এই ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ডিজিটাল ঋণ ব্যবসায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঋণ খেলাপি বাড়লে বা নিয়ন্ত্রক নীতিতে পরিবর্তন হলে ব্যবসায় চাপ পড়তে পারে। তাই প্রযুক্তি উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রাহকের ক্রেডিট মূল্যায়ন ও রিস্ক কন্ট্রোল শক্ত রাখা জরুরি।




