Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের অবকাঠামো উন্নয়নে বিশাল বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার প্রায় ৪০ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ ও প্রকল্পকে কাজে লাগানোর বড় পরিকল্পনা নিয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো আগামী কয়েক বছরে দেশের সড়ক, রেল, বন্দর, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ এবং নগর অবকাঠামো (Urban infrastructure)-কে দ্রুত উন্নত করা এবং একই সঙ্গে অর্থনীতির গতি বাড়ানো। কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার পাইপলাইন চালু করেছে। যা মাধ্যমে হাজার হাজার প্রকল্পে বিনিয়োগের রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।
পাশাপাশি বিদ্যমান সরকারি সম্পদ থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য ন্যাশনাল মনিটিসটিও পাইপলাইনের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে হাইওয়ে, ট্রান্সমিশন লাইন, গ্যাস পাইপলাইন ও রেল সম্পদ বেসরকারি সংস্থার কাছে দীর্ঘমেয়াদে লিজ দিয়ে ফান্ড কালেকশনের পরিকল্পনাও চলছে। এখন নজর থাকবে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি, বেসরকারি বিনিয়োগের অংশগ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ে কাজ কত দ্রুত এগোয় তার ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের জন্য বড় অবকাঠামো বিনিয়োগ অত্যন্ত প্রয়োজন। উন্নত রাস্তা ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক পরিবহন খরচ কমাবে, ব্যবসার সময় বাঁচাবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতা বাড়াবে। একই সঙ্গে বড় নির্মান প্রকল্পের ফলে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে, যা গ্রামীণ ও শহুরে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিপুল বিনিয়োগের বড় অংশ আসবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা PPP মডেলের মাধ্যমে।
আর এতে সরকার সরাসরি সব টাকা না দিয়ে বেসরকারি সংস্থার বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে। যার ফলে প্রকল্প দ্রুত শেষ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হবে। অর্থনীতিবিদদের মতো, যদি এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ভারতের GDP বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে লজিস্টিক খরচ কমলে বিদেশী বিনিয়োগও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ ৪০ লক্ষ কোটি টাকার এই অবকাঠামো পরিকল্পনাকে ভারতের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।




