Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের স্মার্টফোন বাজারে এক বিরল পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বাজারে শীর্ষ চীনা ব্র্যান্ডগুলো; যেমন Xiaomi, Oppo, Realme এবং OnePlus–এর বিক্রি প্রথমবারের মতো কমেছে। যা এই কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত রাজস্বেও প্রায় ৪.৫% হ্রাস ঘটিয়েছে। এটি গত বছরের প্রায় ৪২% প্রসারনের বিপরীতে প্রথমবারের মতো ঘাটতির ইঙ্গিত, যা বাজারের গতিপ্রকৃতিতে বড় পালাবদলের সংকেত দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধান কারণ হল ভারতের ক্রেতাদের ক্রমেই প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের দিকে ঝোঁক বেশি হওয়া।
যেখানে আগে বাজেট ও মধ্যম মূল্যবাজার ছিল চীনা ব্র্যান্ডগুলোর শক্তির মূল ক্ষেত্র, সেখানে ২০২৫ সালে সেই সেকশনটি সংকুচিত হয়ে ৩৮% থেকে মাত্র ২৯%–এ নেমে এসেছে। এতে দাম কম ফোনের বিক্রি কমে এসেছে, ফলে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর ব্যবসা চাপের মুখে পড়েছে। এদিকে স্মার্টফোনের দামও সামগ্রিকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে মেমোরি চিপসহ অন্যান্য উপাদানের খরচ বেড়ে যাওয়া এবং রূপির অবমূল্যায়ন এসব চাপ তৈরি করছে, যা নির্মাতাদের কাছে দাম বাড়াতে বাধ্য করছে।
এই মূল্যের বৃদ্ধির ফলে নিম্ন ও মাঝামাঝি দামি ফোনের চাহিদা আরও কমে যেতে পারে; যা আবারও চীনা ব্র্যান্ডগুলোর এনার্জি সেকশনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে লাভবান হচ্ছে উচ্চ মূল্যের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড বিশেষ করে অ্যাপেল ও স্যামসাং, যাদের প্রিমিয়াম সেগমেন্টে বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ বলছে, ৪৫,০০০ টাকা বা তার বেশি দামের ফোনের বাজারে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। যার ফলে এই উচ্চ শেষের বাজারে অ্যাপেল ও স্যামসাংয়ের অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে।
একদিকে যেখানে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর মূল্যবান রাজস্ব কমছে, অন্যদিকে স্মার্টফোনের দাম বৃদ্ধির ফলে সার্বিক বাজারের মনোভাবেও পরিবর্তন আসছে। কম দামের ফোনের বাজারে ক্রেতাদের অর্থনৈতিক চাপ ও কম চাহিদা ব্র্যান্ডগুলো নামিয়ে এনেছে। আর এর ফলে সামগ্রিক বাজারে প্রিমিয়াম সেগমেন্টের প্রভাব আরও দৃঢ় হচ্ছে। এই পরিবর্তন শুধু এক কোম্পানি বা ব্র্যান্ডের সমস্যাই নয়—এটি বড় অর্থনৈতিক প্রবণতার প্রতিফলন। যেখানে ক্রেতারা প্রযুক্তি পছন্দে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে এবং দাম বৃদ্ধির সঙ্গে মান, ব্র্যান্ড সার্ভিসেস ও পরিষেবার দিকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে।




