Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার বা ফরেক্স রিজার্ভ আবারও সামান্য বেড়েছে। বিদেশী বিনিয়োগের প্রবাহ, রপ্তানি প্রাপ্ত আয় এবং ডলারের আগমন বাড়ায় রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে এই বৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর করেছে সোনার দামে ভোলাটিলিটি। রিজার্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সোনায় বিনিয়োগ করা থাকে: আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে পরিবর্তন এবং ডলারের বিপরীতে অন্যান্য মুদ্রার মূল্য ওঠানামার কারণে রিজার্ভের মোট মূল্যায়নে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে বৈদেশীক মুদ্রায় সম্পদ বাড়লেও সোনার মূল্যায়ন কমে যাওয়ায় সামগ্রিক বৃদ্ধি সীমিত থেকেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ ফরেক্স রিজার্ভ ভারতের অর্থনীতির জন্য বড় সুরক্ষা। এটি রুপির ওপর চাপ কমাতে, আমদানি ব্যয় সামলাতে এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময় দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছেও ভারতের অর্থনীতির পক্ত অবস্থানের বার্তা দেয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে রিজার্ভের গতিপথ নির্ভর করবে বৈশ্বিক সুদের হার, বিদেশী বিনিয়োগের প্রবাহ, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক সোনার বাজারের ওপর। তাই রিজার্ভ বাড়লেও সোনার মূল্যায়নের পরিবর্তন ভবিষ্যতেও এর মোট আকারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতের ফরেক্স রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার রুপির বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে, তেল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যয় সামলাতে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার বা ইকোনমিক ইনস্টেবিলিট সময় আর্থিক সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায় এবং আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও শক্তিশালী করে। তবে সোনার দামের ওঠানামা রিজার্ভের মোট মূল্যকে প্রভাবিত করায়, বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারের গতিবিধি ও ভারতের আর্থিক স্থিতিশীলতা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




