Article By – সুনন্দা সেন

আজ এক বেসরকারি জরিপে বা সার্ভেতে দেখা গেছে, নভেম্বরের এই পর্যন্ত ভারতের বেসরকারি খাতের কার্যক্রম মন্থর লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উৎপাদন খাতে দুর্বল অর্ডার ও আবহাওয়াজনিত ব্যাঘাতের কারণে ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। আজ প্রকাশিত HSBC এবং S&P Global-এর ফ্ল্যাশ পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (PMI) রিপোর্ট অনুসারে, ভারতের কম্পোজিট PMI নভেম্বর মাসে এই পর্যন্ত (২০ নভেম্বর পর্যন্ত) ৫৯.৯-এ দাঁড়িয়েছে। যা তার আগের মাস (অক্টোবর মাস)-এর ৬০.৪ -এর থেকে কম। আর এটি মে মাসের পর সবচেয়ে কম সম্প্রসারণ হার। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ম্যানুফ্যাকচারিং PMI কমে ৫৭.৪-এ দাঁড়িয়েছে, যা নয় মাসের সর্বনিম্ন স্তর।
উৎপাদকরা জানিয়েছেন, নতুন অর্ডার কমে যাওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া ধীর হয়েছে, এবং অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ইনপুট কেনাকাটা কমিয়ে দিচ্ছে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণে। সাথে সার্ভেতে উল্লেখিত রয়েছে যে, নতুন অর্ডারের গতি কমেছে, বিশেষ করে রপ্তানি অর্ডারের বৃদ্ধি মার্চের পর সবচেয়ে ধীর চলতি মাসে। আর সমীক্ষা অনুযায়ী, বৈদেশিক মার্কেটে প্রতিযোগীতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাবে রপ্তানির চাহিদা কমেছে। সাথে বৃষ্টি অনুমানের চেয়ে বেশি হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যহত হয়েছে। অন্যদিকে পরিষেবা খাতে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে।
অবশ্য দেশের অভ্যন্তরীণ ভোক্তা চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে, যার কারণে পরিষেবা খাতের PMI তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে আছে। যদিও রপ্তানিনির্ভর পরিষেবা খাতে অর্ডার মন্থরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, “যদিও ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি মজবুত ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছে, তবে রপ্তানি বাজারে এই দুর্বলতা যদি আরও দুই–তিন মাস স্থায়ী হয়, তাহলে ২০২৬ সালের প্রথম চতুর্মাসিকে সামগ্রিক বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমতে পারে।” তারা আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ইতিবাচক হলে রপ্তানির গতি ফের বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মুদ্রাস্ফীতি কমার সম্ভাবনা এবং সুদের হার স্থিতিশীল হওয়ার প্রেক্ষাপটে আগামী বছরের মাঝামাঝি পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে।




