চিনকে হারিয়ে গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হওয়া সহজ নয় বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এন আর নারায়ণ মূর্তি। ‘ELCIA টেক সামিট 2024’-এ অংশগ্রহণ করে তিনি জানান, চিনকে পেছনে ফেলে বিশ্বব্যাপী উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হওয়া সহজ হবে না ভারতের পক্ষে। এক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতের সরকারি নীতি এবং জনশাসন ব্যবস্থার উন্নতির একান্ত প্রয়োজন। তাই ভারতের জন্য ‘হাব’ এবং ‘গ্লোবাল লিডার’-এর মতো বড় শব্দ ব্যবহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন নারায়ন মূর্তি।
ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এন আর নারায়ণ মূর্তি বলেন, “চিন ইতিমধ্যে বিশ্বের কারখানায় পরিণত হয়েছে। অন্যান্য দেশের সুপারমার্কেট এবং হোম ডিপোতে মজুদকৃত প্রায় 90 শতাংশ আইটেম চিনে তৈরি। তাদের অর্থনীতি (GDP) ভারতের চেয়ে ছয় গুণ বড়। এমতাবস্থায় ভারত একটি ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হয়ে উঠবে বলাটা একটু বেশিই বাড়াবাড়ি।“
নারায়ণ মূর্তি আরও বলেন, আইটি সেক্টর রপ্তানি নির্ভর হলেও, উৎপাদন শিল্পের আরও অভ্যন্তরীণ অবদান এবং সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। উৎপাদনে দেশীয় অবদান বেশি। উৎপাদনের সাফল্যে সরকার বড় ভূমিকা পালন করে। দুর্ভাগ্যবশত, ভারতের মতো একটি দেশে এখনও পর্যন্ত জনশাসনে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, গতি এবং শ্রেষ্ঠত্বের উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। উৎপাদন খাতের উন্নয়নের জন্য সরকার ও শিল্পের মধ্যে ন্যূনতম হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন নারায়ন মূর্তি।
নারায়ন মূর্তি আরও বলেন, উদ্যোক্তাদের বাজারের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও ভালভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। মার্কেটে ভ্যালু যোগ করার জন্য সহজ গাণিতিক মডেলগুলি ব্যবহার করতে শিখতে হবে। উদ্যোক্তাদের বাজার মূল্যায়ন করতে শিখতে হবে। অনুমান করতে হবে তারা কতটা বাজার ধরতে পারবেন। সাফল্যের জন্য প্রয়োজন জ্ঞান এবং প্রতিভা। এছাড়াও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, মানুষের মনের সৃজনশীলতা এবং শক্তি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর চেয়ে অনেক বেশি উন্নত।
Article By – আস্তিক ঘোষ






