ধান চাষের জন্য পরিচিত অসম রাজ্যে এবার কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে ভুট্টা। উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার বলা হয় অসমকে। ইতিপূর্বে অসমে প্রচুর পরিমাণে ধান চাষ করা হত। তবে দিনের পর দিন সেখানকার কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধানের চাষাবাদ কমিয়ে এখন ক্ষেতের পর ক্ষেত জুড়ে চাষ হচ্ছে ভুট্টা।
অসমের কৃষকদের কাছে ভুট্টা বর্তমানে ধানের চেয়েও অতিরিক্ত লাভজনক অর্থকরী ফসল হয়ে উঠেছে। গত এক দশক থেকে অসমের কৃষিকাজে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এর পিছনে রয়েছে কৃষিবিদদের অক্লান্ত পরিশ্রম। বর্তমানে “ইথানল শিল্পের ক্যাচমেন্ট এলাকায় ভুট্টার উৎপাদন বৃদ্ধি” নামক এক প্রকল্পের আওতায় সেখানে ভুট্টা চাষ বৃদ্ধির চেষ্টাও চলছে।
এই প্রকল্পের অধীনে অসমের 12টি জেলায় কাজ চলছে। যার মধ্যে ধুবরি, কোকরাঝার, বোরঝার, বারপেটা এবং গোয়ালপাড়া উল্লেখযোগ্য। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চের আওতায় কাজ করা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মেইজ রিসার্চের ডিরেক্টর ডঃ হনুমান সহায় জাট এই প্রসঙ্গে জানান, খরিফ, রবি এবং জাইদ এই তিনটি ঋতুতেই ভুট্টা উৎপাদিত হয়। যদিও ভুট্টা মূলত খরিফ মরশুমের ফসল।
অসমে রবি মরশুমে প্রায় 10 লাখ হেক্টর জমি খালি পড়ে থাকত। সেক্ষেত্রে IIMR এবং অসম সরকারের স্পনসর করা বিশ্বব্যাঙ্ক প্রকল্পের অধীনে প্রশিক্ষণ শিবিরের সঙ্গে সঙ্গে রবি মরশুমে 360 হেক্টর জমিতে কৃষকদের জন্য খামার প্রদর্শনী আয়োজন করে। 2023-24 সালের রবি মরশুমে এই চাষ থেকে হেক্টর প্রতি 10 টন ভুট্টা উৎপাদন হয়। তাই কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে।
গত বছরের তুলনায় এ বছরই অসমে ভুট্টার চাষ প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে 1.07 লাখ হেক্টর হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদনশীলতাও বেড়েছে 259 কেজি প্রতি হেক্টর।
Article By – আস্তিক ঘোষ






