Article By – সুনন্দা সেন

ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী দেশ। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্যের উৎপাদন এবং রপ্তানি দ্রুত বেড়েছে। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে; ভারতে তৈরি হওয়া এই পণ্যগুলির কতটা অংশ সত্যিই দেশীয় প্রযুক্তি ও উপাদান দিয়ে তৈরি? আর কতটা শুধুই অ্যাসেম্বলি? বর্তমানে ভারতের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে দেশীয় ভ্যালু অ্যাডিশন বা মূল্য সংযোজন মাত্র ১৮% থেকে ২০%। অর্থাৎ একটি স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের মোট মূল্যের প্রায় ৮০% আসে আমদানি করা চিপ, ডিসপ্লে, ক্যামেরা মডিউল, মেমোরি, সেন্সর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের যন্ত্রাংশ থেকে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের মোট ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের মধ্যে কম্পোনেন্ট উৎপাদনের অংশ ছিল মাত্র ৯৫, যেখানে বিশ্বের এই হার প্রায় ৪২%। অর্থাৎ ভারত এখনও মূলত ফাইনাল প্রোডাক্ট অ্যাসেম্বলিতে শক্তিশালী হলেও, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরিতে অনেকটাই পিছিয়ে। এই পরিস্থিতি বদলাতে কেন্দ্র সরকার PLI (Production Linked Incentive), ইলেকট্রনিক্সস কম্পোনেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিম এবং সেমিকন 2.0-এর মতো প্রকল্পে জোর দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অ্যাসেম্বলি হাব থেকে পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত হওয়া।
ভারতের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন দ্রুত বাড়লেও অধিকাংশ উচ্চমূল্যের কম্পোনেন্ট এখনও আমদানি করতে হয়। ফলে আমদানি বিল, সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি এবং উৎপাদন খরচের উপর চাপ থেকে যায়। যদি দেশে আরও বেশি কম্পোনেন্ট ও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন শুরু হয়, তাহলে মূল্য সংযোজন বাড়বে, রপ্তানি আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং ভারত বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স সাপ্লাই চেইনে আরও শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলতে পারবে। এটি দেশের উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




