Article By – সুনন্দা সেন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন জেনারালাইজড স্কিম অফ প্রেফারেন্সেস বা GSP নীতিতে যে কড়াকড়ি আনা হয়েছে, তার প্রভাব ভারতের রপ্তানির উপর খুবই সীমিত থাকবে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের মোট রপ্তানির মধ্যে মাত্র ২.৭% পণ্যের উপরই এই নতুন GSP নিয়মের প্রভাব পড়বে। সরকারের বক্তব্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই নতুন নিয়মকে ঘিরে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবে খুব বড় কোনও ধাক্কা নয়।
ভারতের ইউরোপে রপ্তানির একটি বড় অংশই এমন পণ্য, যা ইতিমধ্যেই GSP সুবিধার বাইরে রয়েছে অথবা অন্য বাণিজ্যিক চুক্তির আওতায় শুল্কছাড় পেয়ে থাকে। ফলে নতুন GSP কাঠামোর কারণে ভারতের সামগ্রিক রপ্তানি প্রবাহে বড় কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছে সরকার। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি তাদের GSP ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। এই নতুন ব্যবস্থায় পরিবেশ সংরক্ষণ, শ্রম আইন, মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলিকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যে দেশগুলি এই মানদণ্ড পূরণ করতে পারবে না, তাদের ক্ষেত্রে শুল্কছাড়ের সুবিধা সীমিত করা হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে বাণিজ্য মন্ত্রকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত ইতিমধ্যেই অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শ্রম ও পরিবেশ সংক্রান্ত চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি গ্রহণ করেছে। এর ফলে ভারতের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার সম্ভাবনা কম। সরকার আরও জানিয়েছে, যেসব পণ্যের উপর জিএসপি সুবিধা সীমিত হতে পারে, সেগুলির রপ্তানি বিকল্প বাজারে ঘুরিয়ে দেওয়ার কৌশলও তৈরি করা হচ্ছে।
ভারতের রপ্তানি খাতের দৃষ্টিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, কৃষিজ পণ্য, ইঞ্জিনিয়ারিং গুডস এবং ওষুধ—এই সব ক্ষেত্রেই ইউরোপ ভারতের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। সরকারের মতে, নতুন GSP নিয়ম কার্যকর হলেও এই মূল রপ্তানি ক্ষেত্রগুলিতে বড় কোনও ধাক্কা লাগবে না। এছাড়াও ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে চলমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা FTA আলোচনা ভবিষ্যতে এই ধরনের শুল্কসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে পারে বলে মনে করছে সরকার। আলোচনা সফল হলে, দীর্ঘমেয়াদে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য ইউরোপের বাজার আরও সহজলভ্য হবে।




