Article By – সুনন্দা সেন

এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির রাজপথে কুচকাওয়াজ সামরিক শক্তি বা মিলিটারি পাওয়ার প্রদর্শন এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের পাশাপাশি ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনেও বড় চমক অপেক্ষা করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আলোচনা চলছে, একটি বা একাধিক বিলিয়ন ডলার মূল্যের বাণিজ্য চুক্তিই হতে পারে এই প্রজাতন্ত্র দিবসের আসল আকর্ষণ। সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, প্রজাতন্ত্র দিবসকে কেন্দ্র করে ভারত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে বড় চুক্তি বা সমঝোতার ঘোষণা করতে পারে।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং ভারতকে একটি বৈশ্বিক সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যখন বানিজ্যে অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে। সেই সময় ভারতের এই ধরনের বিলিয়ন-ডলার চুক্তি বিশ্ব বাজারে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এতে ভারতের প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং রপ্তানির নতুণ পথ খুলে যেতে পারে। কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানের সময় এই ধরণের অর্থনৈতিক ঘোষণা ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক ভূমিকার প্রতিফলন।
সামরিক শক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমেই ভারত নিজেকে একটি দায়িত্বশীল ও প্রভাবশালী বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এই চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু আন্তর্জাতিক স্তরেই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। নতুন বিনিয়োগ এলে কর্মসংস্থান বাড়বে, শিল্প উৎপাদনে গতি আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের বিলিয়ন-ডলার বাণিজ্য চুক্তি দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক দিশা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। আর সেই কারণেই এই প্রজাতন্ত্র দিবসকে ঘিরে অর্থনৈতিক মহলের নজর এখন তুঙ্গে।




