Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে কেন্দ্র সরকারের নতুন অ্যামোনিয়া সংক্রান্ত নির্দেশিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন সার ইন্ডাস্ট্রিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বড় ধাক্কা খেতে পারে দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল বা ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, ইউরিয়া কারখানাগুলিতে উৎপাদিত অতিরিক্ত বা উদ্বৃত্ত অ্যামোনিয়া আর খোলা বাজারে বিক্রি করা যাবে না। এই উদ্বৃত্ত অ্যামোনিয়া এখন থেকে মূলত সার উৎপাদনের কাজেই ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ, আগে যেসব ফার্মা কোম্পানি এই উদ্বৃত্ত অ্যামোনিয়া কিনে তাদের উৎপাদন চালাত, এখন তারা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
ফার্মা শিল্পের জন্য অ্যামোনিয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। বিশেষ করে অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস বা API তৈরিতে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে সরবরাহ কমে গেলে সরাসরি প্রভাব পড়বে ওষুধ উৎপাদনের উপর। শিল্প মহলের আশঙ্কা, এর ফলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের ঘাটতিও দেখা দিতে পারে। এছাড়া, দেশীয় বাজারে অ্যামোনিয়ার সরবরাহ কমে গেলে ফার্মা সংস্থাগুলিকে বিদেশ থেকে উচ্চ মূল্যে এটি আমদানি করতে হতে পারে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত সেই চাপ পড়বে সাধারণ মানুষের উপর; অর্থাৎ, বাড়তে পারে ওষুধের দাম।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের ওষুধ রপ্তানিও চাপে পড়তে পারে। কারণ, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জেনেরিক ওষুধ সরবরাহকারী দেশ। উৎপাদন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য। কৃষিক্ষেত্রে সার, বিশেষ করে ইউরিয়ার পর্যাপ্ত জোগান বজায় রাখা এখন সরকারের অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক বাজারে সার ও তার কাঁচামালের দামের অস্থিরতা এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।




