Article By – সুনন্দা সেন

ভারত আজ আনুষ্ঠানিকভাবে E85 ফুয়েল চালু করলো, যা দেশের বিকল্প জ্বালানি ও সবুজ পরিবহন নীতি (Green Transportation Policy)-তে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আসলে E85 হলো এমন এক ধরনে জ্বালানি বা ফুয়েল, যেখানে ৮০%-৮৫% ইথানল এবং বাকি অংশ পেট্রোল থাকে। এই জ্বালানি ব্যবহার করতে বিশেষ FFV (Flex-Fuel Vehicle) প্রয়োজন, যা বিভিন্ন অনুপাতে ইথানল-পেট্রোল মিশ্রিত জ্বালানি দ্বারা চলতে পারে। সরকার ইতিমধ্যেই E20 (২০% ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল) সারা দেশে চালু করেছে। আর এই E85-এর দিকে অগ্রসর হওয়া আর একটি কৌশল পরবর্তী ধাপ।
এদিকে দেশের অটোমোবাইল শিল্পও দ্রুত সাড়া দিচ্ছে। সম্প্রতি Hero MotoCorp ভারতের প্রথম 100cc ফ্লেক্স-ফুয়েল মোটরসাইকেল বাজারে এনেছে, যা E85 পর্যন্ত ইথানল মিশ্রণে চলতে সক্ষম। পাশাপাশি মারুতি সুজুকি (Maruti Suzuki) ভারতের প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল যাত্রীবাহী গাড়ি লঞ্চ করেছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ৫০০টি E85/E100 জ্বালানি স্টেশন চালু করা হবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৫,০০০-এ উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
ভারতের বিপুল অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা এবং দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ইথানলের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। যার ব্যবসায়িক প্রভাবও রয়েছে,
- ভারতের তেল আমদানি বিল কমতে পারে।
- আখ ও ভুট্টা উৎপাদক কৃষকদের চাহিদা বাড়তে পারে।
- ইথানল উৎপাদনকারী সংস্থা ও সুগার কোম্পানিগুলি লাভবান হতে পারে।
- ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি ও বাইকের নতুন বাজার তৈরি হতে পারে।
- দীর্ঘমেয়াদে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হতে পারে।




