Article By – সুনন্দা সেন

ভারত ক্রড অয়েলের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন এক পথ খুঁজছে, চিনি থেকে তৈরি ইথানলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার। সরকারের ইথানল ব্লেন্ডিং প্রোগ্রাম বা EBP-এর আওতায় পেট্রোলের ইথানল মেশানোর হার দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে। আর লক্ষ্য হলো, ২০২৫ সালের মধ্যে ২০% ইথানল মিশ্রণ বা E20 অর্জন করা। বর্তমানে দেশে গড় ১০%-১৩% ইথানল ব্লেন্ডিং ইতিমধ্যেই হয়েছে। এতে একদিকে যেমন আমদানি করা তেলের খরচ কিছুটা কমেছে, অন্যদিকে কার্বন নির্গমনও কমানোর চেষ্টা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপে ইতিমধ্যেই কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়েছে। এছাড়া এই উদ্যোগে বড় লাভবান হচ্ছে দেশের চিনি ইন্ডাস্ট্রি। অতিরিক্ত চিনি উৎপাদনের সমস্যা দীর্ঘদিনের, এখন সেই অতিরিক্ত চিনি ও আখ থেকে তৈরি ইথানল বিক্রি করে মিলগুলো নতুন আয়ের উৎস খুজে পেয়েছে। ফলে কৃষকরাও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল দাম পাচ্ছেন। তবে এই ‘মিষ্টি’ সমাধানের বেশকিছু তিক্ত দিকও রয়েছে। আর সেগুলি হল –
- প্রথমত, আখ চাষ অত্যন্ত জলনির্ভর। মহারাষ্ট্র বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে যেখানে জলসংকট রয়েছে, সেখানে আখের চাষ বাড়ানোর পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ ফেলতে পারে।
- দ্বিতীয়ত, খাদ্য বনাম জ্বালানি বিতর্ক। যদি বেশি পরিমাণে খাদ্যশষ্য বা আখ জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, সেক্ষেত্রে খাদ্যের জোগান ও দাম প্রভাবিত হতে পারে। ইতিমধ্যেই সরকার মাঝে চালে ব্যবহার সীমিত করেছে ইথানল উৎপাদনের ক্ষেত্রে।
- তৃতীয়ত, ইথানল দিয়ে পুরোপুরি তেলের বিকল্প তৈরি নয়। ২০% মিশ্রণ হলেও এটি মোট জ্বালানি চাহিদার একটি অংশই পূরণ করতে পারবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যানবাহনের প্রস্তুতি; E20 জ্বালানির জন্য উপযুক্ত ইঞ্জিন এখনও সব গাড়িতে নেই। পুরনো গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে কর্মক্ষমতা বা রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথানল একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক পদক্ষেপ হলেও এটি একমাত্র সমাধান নয়। ভারত একইসঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং কৃষিজ বর্জ্য থেকে তৈরি উন্নত বায়োফুয়েলের ওপরও জোর দিচ্ছে।




