Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্ববাজারে রাইস রপ্তানি নিয়ে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক একটি বক্তৃতায় অভিযোগ করেছেন যে ভারত যুক্তরাষ্ট্রে কম দামে বিপুল পরিমাণ চাল রপ্তানি করছে, যা তাঁর ভাষায় “rice dumping”। এই অভিযোগ ঘিরে মার্কিন প্রশাসন ভবিষ্যতে নতুন শুল্ক আরোপ করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে, এবং এর প্রভাব ইতিমধ্যেই ভারতীয় রপ্তানিকারক বাজারে দেখা যাচ্ছে। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই ভারতীয় চাল রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলোর শেয়ারে হঠাৎ বিক্রির চাপ তৈরি হয়।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র রাইস আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক বসায়, তবে রপ্তানিতে ব্যয় বাড়বে এবং লাভ কমে যাবে। এর ফলে, বাজারে কোহিনূর সহ বেশ কিছু পরিচিত রাইস কোম্পানির শেয়ারের দাম ৫–১০% পর্যন্ত পতন ঘটেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি নীতিগত মন্তব্য ও সম্ভাব্য শুল্ক পরিবর্তন শেয়ারবাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
তবে রপ্তানি শিল্পের প্রতিনিধিরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের চাল রপ্তানির পরিমাণ সীমিত। শুল্ক আরোপ হলেও রপ্তানির ওপর বাস্তবিক প্রভাব খুব গভীর নাও হতে পারে।
ভারতীয় চালের বড় বাজার মূলত মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া; যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির অংশ তুলনায় খুবই কম। এদিকে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধরনের রাজনৈতিক মন্তব্য বৈশ্বিক বাণিজ্যে মানসিক চাপ তৈরি করে এবং বাজারকে অস্থির করে তোলে। বিশেষ করে খাদ্যশস্য রপ্তানির মতো সংবেদনশীল খাতে এর প্রভাব দ্রুত দেখা যায়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যদি শুল্কনীতি কঠোর হয়, তবে ভারতের কৃষি-রপ্তানি ভবিষ্যতে আরও সতর্ক নীতি অনুসরণ করতে হতে পারে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের মন্তব্য এবং সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক-ঝুঁকি ভারতীয় রাইস রপ্তানি শিল্পে স্বল্প-মেয়াদে চাপ তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে মার্কিন প্রশাসন আসলে কী নীতি গ্রহণ করে, এবং তার প্রভাব বাজারে কেমন প্রতিফলিত হয়।




