Article By – সুনন্দা সেন

সোনা ও রুপোর দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছানো সাথে পণ্য বা কমোডিটি মার্কেটগুলি উত্তপ্ত এবং সমস্ত ধরণের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি। এছাড়া ধাতুদুটি শুল্ক, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রার ওঠানামার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ বিকল্প হয়ে উঠেছে। এমনকি হতাশা জনক পরিস্থিতিতে ভারত সহ এশিয়ান কিছু মার্কেট, US এবং EU বার্ষিক ভিত্তিতে দুর্দান্ত দ্বি-অঙ্কের রিটার্ন পোস্ট করেছে। আন্তর্জাতিক মার্কেটে ২০২৫ সালে বার্ষিক ভিত্তিতে সোনার দাম ৩২%-এরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রতি আউন্স ৩,৫০০ ডলারের উপরে লেনদেন করেছে। অন্যদিকে রুপোর দাম ৪০%-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৫০ ডলারে পৌঁছেছে।
দেশীয় মার্কেটে সোনার দাম ৩৪%-এরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে ১০ গ্রামের দাম ১,০২,০০০ টাকা থেকে ১,০৫,০০০ টাকার মধ্যে পৌঁছেছে। এদিকে রুপোর দাম ৪২%-এরও বেশি বেড়ে প্রতি কেজি ১,২৩,০০০ টাকায় পৌঁছেছে। আর এই দুই ধাতুর বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রয়েছে –
- সোনা ঐতিহ্যগত ভাবে অনিশ্চয়তা এবং অস্থিরতার মাঝে নিরাপদ হেজ হিসাবে কাজ করে, একই কথা রুপোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যেখানে বৈশ্বিক ইক্যুইটি, ডেট মার্কেট অনিশ্চয়তার সাথে লেনদেন করায়, বৃহৎ ঝুঁকিবহন করছে। এমন অবস্থায় নিরাপদ বিকল্প হিসাবে প্রথমে সোনা, তারপর রুপোর চাহিদার সাথে দাম বেড়েছে।
- মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশা বৃদ্ধির সাথে বৈশ্বিক বন্ড ইয়েল্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে CPI ৩.৮%-এ রয়েছে। আর বন্ডের বৃদ্ধির সাথে তার মধ্যে থাকা প্রোডাক্ট বৈশ্বিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন অবস্থায় সোল নিরাপদ হওয়ায় দাম বেড়েছে, বন্ডের মূল্য বৃদ্ধির কারণে।
- সোনা ও রুপোর মধ্যে রুপোর চাহিদা ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ হলো বিশ্বজুড়ে গ্রণ এনার্জির ব্যবহার বৃদ্ধ পাচ্ছে। সৌর প্যানেলে রূপোর অবদান গুরুত্বপূর্ণ এবং সৌরশক্তির খাত থেকে রুপোর ইন্ডাস্ট্রি চাহিদার ১৫% অবদান রাখে। এছাড়াও ইলেকট্রনিক ভেহিক্যাল, স্যুইচ বোর্ড এবং ব্যাটারিতে রূপোর ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তার মাঝে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলিও সোনায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি সোনার মজুদও আগের তুলনায় বৃদ্ধি করতে ব্যস্ত। আর ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে কেন্দ্র ব্যাংকগুলির সোনার মজুদ ৩৭% থেকে বেড়ে ৪৪%-এ পৌঁছেছে। যার ফলে সোনা রিজার্ভের দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্পদ হয়ে উঠেছে, মার্কিন ডলারের পর।




