Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবারও চাপে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (Fed)-এর নীতিগত বৈঠকের আগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। যার ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত সোনার চাহিদা কিছুটা কমেছে। স্পট গোল্ডের দাম সামান্য কমেছে, কারণ মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের কাছে সোনা তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড উচ্চ অবস্থানে থাকায়, সুদ না দেওয়া সম্পদ (Non interest bearing assets) হিসেবে সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমেছে।
এখন বাজারের মূল নজর ফেডের নীতিগত বৈঠক এবং ফেড চেয়ারপার্সন জেরোম পাওয়েল (Jerome Powell)-এর বক্তব্যের দিকে। যদিও বাজারের বড় অংশের প্রত্যাশা এবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে সুদ কমানোর ইঙ্গিত মিলবে কি না, সেটাই নির্ধারণ করবে সোনার পরবর্তী দিক। এছাড়া যদি ফেড ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেয়, সেক্ষেত্রে ডলার দুর্বল হতে পারে এবং সোনার দাম আবারও উর্ধ্বমুখী হতে পারে। অন্যদিকে যদি ফেড কঠোর অবস্থান বজায় রাখে এবং উচ্চ সুদের নীতি দীর্ঘায়িত হওয়ার বার্তা দেয়, সেক্ষেত্রেও সোনার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
এই খবর শুধু গোল্ডবাজারের জন্য নয়, ভারতের মতো বিশ্বের অন্যতম বড় সোনা আমদানিকারক দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামা দেশের গয়নার দাম, স্বর্ণ আমদানি ব্যয় (Gold import cost) এবং উৎসব ও বিয়ের মরসুমে চাহিদার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এছাড়া ফেডের সুদের সিদ্ধান্ত শুধু সোনা নয়, বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজার, ডলারের বিনিময় হার, উদীয়মান অর্থনীতিতে বিদেশী বিনিয়োগ এবং ভারতীয় বাজারের গতি প্রকৃতিতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই বৈঠকের ফলাফলের দিকে বর্তমানে বিশ্বের আর্থিক বাজারের নজর।




