Article By – সুনন্দা সেন

আজ আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি দেখা গেল ভারতের কমোডিটি বাজারে। Multi Commodity Exchange of India বা MCX-এ সোনার দাম প্রায় ২% বেড়েছে, আর রুপোর দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৬% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর প্রধান কারণ হচ্ছে US ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা, যার ফলে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ছেড়ে নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে MCX-এর এপ্রিল ডেলিভারির সোনা আজ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তি দামে লেনদেন হয়েছে। একইভাবে মার্চ ডেলিভারির রুপোর ফিউচারেও শক্তিশালী ক্রয় দেখা গেছে।
ট্রেডারদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনা-রুপোর চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়াতেই এই দ্রুত উত্থান। বিশ্ববাজারে যখন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন সাধারণত বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার বা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে অর্থ সরিয়ে সোনা ও রুপোর মতো নিরাপদ সম্পদে রাখেন। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় সেই প্রবণতাই এবার আরও স্পষ্ট হয়েছে। এর পাশাপাশি ডলারের দুর্বলতাও এই উত্থানের বড় কারণ। ডলার দুর্বল হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপো তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে যায়, ফলে অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের চাহিদা বেড়ে যায়। এই বাড়তি বৈশ্বিক চাহিদা ভারতের বাজারেও দামকে উপরের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শুধু ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাই নয়, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সুদের হার নিয়ে জল্পনাও কমোডিটি বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে সোনা-রুপোর দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। রুপোর দাম সোনার তুলনায় বেশি বেড়েছে, কারণ রুপোর বাজার তুলনামূলক ছোট এবং এতে শিল্পক্ষেত্রের চাহিদাও থাকে। তাই হঠাৎ বড় ক্রয় এলেই রুপোর দামে দ্রুত লাফ দেখা যায়। ভারতের জুয়েলারি বাজার ও খুচরো ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। যদি আন্তর্জাতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ডলার দুর্বলই থাকে, তাহলে আগামী দিনগুলোতে সোনার দাম আরও উঁচু স্তরে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত হলে দ্রুত সংশোধনও হতে পারে।




