Article By – সুনন্দা সেন

সরকারের অন্দরে সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে দুই ধাতুর উপর কার্যকর আমদানি শুল্ক ১৫%। শিল্পমহল ও বুলিয়ন ব্যবসায়ীরা এই হার কমিয়ে প্রায় ৬%-এ নামিয়ে আনার দাবির কথা জানাচ্ছেন। ১৩মে, ২০২৬-এ সরকার সোনা ও রুপোর শুল্ক ৬% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করেছিল। যার মূল লক্ষ্য ছিল মূল্যবান ধাতুর আমদানি কমানো, বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ের উপর চাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং বাণিজ্যিক ঘাটতি কমলোনা। কিন্তু বর্তমানে সরকারের কিছু অংশ মনে করছে, অতিরিক্ত শুল্ক বৈধ আমদানি কমে গিয়ে চোরাচালানের প্রবণতা বাড়াতে পারে।
শুল্ক কমিয়ে বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে আমদানি বাড়ানো যায় কি না, সেটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত শুল্ক কমানোর কোনও চূড়ান্ত সীদ্ধান্ত হয়নি। এদিকে শুল্ক বাড়ানোর পরও সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পেয়েছে। চলতি বছরের ১৩মে থেকে ২আগস্ট পর্যন্ত সোনা, রুপো ও প্ল্যাটিনামের আমদানি থেকে মোট ১০,৪৬৩ কোটি টাকা শুল্ক আদায় হয়েছে (Duty Collected)। যার মধ্যে সোনা থেকেই এসেছে ১০,০৪০ কোটি টাকা এবং রুপো থেকে ৩২৮ কোটি টাকা। এমন অবস্থায় শিল্পমহলের দাবি, শুল্ক কমলে আমদানির খরচ কিছুটা কমতে পারে, যার প্রভাব সোনা-রুপির দাম এবং জুয়েলারি মার্কেটে।
অবশ্য সরকারের সামনে অন্য একটি বড় বিষয়ও রয়েছে। উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে বৈধ আমদানি কমে গেলে কিছু ক্রেতা ও ব্যবসায়ী অবৈধ চ্যানেলের দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। অণ্যদিকে শুল্ক বাড়ানোর পর সরকার ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পেয়েছে। তাই শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিলে রাজস্ব আদায়ের উপর কী প্রভাব পড়বে, সেটিও হিসাব করে দেখতে হবে। এছাড়া শুল্ক কামনো হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে সোনা ও রুপোর আমদানি খরচে। তবে এর অর্থ এই নয় যে শুল্ক কমলেই বাজারে সোনা ও রুপোর দাম একই অনুপাতে কমে যাবে।




