প্রাপ্তবয়স্ক যুবক বা যুবতী, যাঁদের বয়স মধ্য-কুড়ির আশেপাশে, তাঁরা একটা পরিবর্তনশীল সময়ের মধ্যে দিয়ে যান। দেখা যায়, সদ্য তাঁরা পড়াশোনা শেষ করেছেন, চাকরি শুরু করেছেন এবং আর্থিকভাবে স্বাধীনতা পেয়েছেন। ফলে একদিকে যেমন থাকে আর্থিক স্বাধীনতা উপভোগের আনন্দ আবার অন্যদিকে ভবিষ্যতে আর্থিক ভিত মজবুত করার তাগিদ। এইসময় আপনার প্রতিটি সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেবে আপনি অতিমাত্রায় খরচ করবেন নাকি বিচক্ষণতার সঙ্গে সঞ্চয় করে সম্পদ তৈরি করবেন। সেই জন্য আয় করতে শুরু করার পর থেকেই money management জানা একান্ত দরকার।
কথায় আছে টাকা থেকেই টাকা বৃদ্ধি পায়। আজকে আপনি যে অর্থ সঞ্চয় করবেন বা বিনিয়োগ করবেন, ভবিষ্যতে সেই অর্থ থেকেই বিশাল corpus তৈরি হবে। একটি নির্দিষ্ট বাজেট মেনে চলে আপনি money management করতে পারবেন এবং বিভিন্নভাবে সেই অর্থ বিনিয়োগ করতে পারবেন। বাজেটিং-এর সাহায্যে আপনি নতুন গাড়ি কেনা থেকে শুরু করে, বাড়ি তৈরি, নতুন স্টার্ট আপ শুরু করা ইত্যাদি লক্ষ্যগুলিও পূরণ করতে পারবেন। আজকের দ্রুত-চলমান জীবনে সঠিকভাবে অর্থের ব্যবস্থাপনা বা ম্যানেজমেন্ট করতে জানা সকলের জন্য জরুরি বিশেষ করে যুবক যুবতীদের জন্য, যাতে তাঁরা আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাধীনতা পান। নতুন যাঁরা কর্মজীবন শুরু করেছেন তাঁদের জন্য আজকে আমরা কিছু বাজেট কৌশল জানব যা আর্থিক সচ্ছলতা আনতে সাহায্য করবে।
- চটজলদি বিনিয়োগ শুরু : নতুন আয় করতে শুরু করেছেন যাঁরা তাঁদের প্রথম লক্ষ্য হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিনিয়োগ শুরু করা। কারণ তাহলে আপনার অর্থ বেশি সময় ধরে কম্পাউন্ড হওয়ার সুযোগ পাবে এবং লং টার্মে ভালো বৃদ্ধি পাবে। আপনি SIP-র মাধ্যমে ইক্যুইটি বা ডেটে বিনিয়োগ করতে পারেন। ছোটো ছোটো ইনস্টলমেন্টের মাধ্যমে অর্থ বিনিয়োগের জন্য জনপ্রিয় একটি বিকল্প হল SIP। SIP বিনিয়োগ চাকরিজীবীদের জন্য বেশি উপযোগী কারণ এখানে আপনাকে lumpsum বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না।
- খরচ নিয়ন্ত্রণ : সঠিকভাবে মানি ম্যানেজমেন্টের জন্য খরচ নিয়ন্ত্রণ করা একান্ত প্রয়োজন। অতিরিক্ত খরচ আপনার লং টার্ম বিনিয়োগে প্রভাব ফেলে। সেই জন্য নিজের খরচগুলিকে তিনটি ভাগে ভাগ করে নিন এবং সেইভাবে বাজেট ঠিক করুন। যেমন প্রথমেই অত্যাবশ্যক খরচ যেমন লোনের EMI, ইলেকট্রিক বিল, ইনসিওরেন্স প্রিমিয়াম, বাড়ি ভাড়া ইত্যাদি। এরপর ছুটি কাটানো, রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া, ইত্যাদির মতো খরচ এবং শেষে সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ। এবার আপনি 50-30-20 রুল মেনে চলুন যেখানে আয়ের 50% হবে আপনার need বা প্রয়োজনীয় খরচ, 30% হবে want বা চাহিদাজনিত খরচ এবং 20% খরচ হবে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ে। তবে এই নিয়ম সকলের জন্য ধ্রুব সত্য নয়। আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পার্সেন্টেজগুলির পরিবর্তন করতে পারেন। এখানে আপনি চাইলে চাহিদাজনিত খরচ কিছুটা কমিয়ে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে পারেন।
- ঋণ কমানো : বর্তমানে যেকোনো ধরনের ঋণ বা লোন পাওয়া বেশ সহজ হয়েছে। সেই জন্য EMI, credit card ইত্যাদি বিভিন্নরকমের ঋণের বোঝায় নতুন প্রজন্ম জর্জরিত। এই ধরনের ঋণ থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই নানারকম দায় থেকে মুক্ত থাকা যায়। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া লোন নেবেন না। এবং ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অবাঞ্ছিত কেনাকাটা থেকে দূরে থাকতে কার্ডের লিমিট কম সেট করে রাখুন। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে এমন কিছুই কিনবেন না যা আপনি ডেবিট কার্ড থেকে কোনোদিন কিনতেন না বা কিনতে পারতেন না।
- Emergency fund তৈরি : আপদকালীন সময়ে একটি সুরক্ষা বলয় তৈরি করে রাখে এমারজেন্সি ফান্ড। যদি আপনার এমারজেন্সি ফান্ড তৈরি না থাকে তাহলে অবশ্যই ৬–৯ মাসের খরচ একটি এমারজেন্সি ফান্ডে রাখুন। জরুরি অবস্থায় আপনার বিনিয়োগ বা সঞ্চয়ে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে সেই জন্য এই ফান্ড তৈরি রাখা খুব দরকার। এবং অবশ্যই এমারজেন্সি ফান্ডটি liquid fund বা sweep in FD-র মতো কোনো জায়গায় রাখবেন যেখান থেকে সহজে liquidate করা সম্ভব অর্থাৎ উইথড্র করা যাবে।
- বাজেট পুনর্মূল্যায়ন : জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে আপনার আর্থিক লক্ষ্য ও পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে। সেই জন্য নির্দিষ্ট সময় পর পর আয়, ব্যয় বা আর্থিক প্রাধান্যগুলি পরিবর্তন হলে বাজেটের পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। যেমন ধরুন, আপনি ঘুরতে যাওয়ার জন্য বিগত কয়েক মাস ধরে সঞ্চয় করছেন। এবার যদি তার পর পরই নতুন গাড়ি কেনারও পরিকল্পনা হয় তাহলে সেই জন্য বাজেটের কিছু হেরফের করা দরকার। তখন গাড়ির জন্য সঞ্চয় বাড়বে এবং ভ্যাকেশনের পরিকল্পনা কিছুটা পিছিয়ে দিতে হবে। অর্থাৎ প্রায়োরিটি বা গুরুত্ব এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী বাজেট পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, যেকোনো সময়ে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আয় ও ব্যয়ের সঠিক হিসাব রেখে বাজেট তৈরি করলে আপনার পক্ষে নিজের আর্থিক লক্ষ্যে পৌঁছানো সহজ হবে।




