Article By – সুনন্দা সেন

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মূল্যবান ধাতুর গহনা আমদানি সীমিত করেছে। এর ফলে সোনা, রুপো এবং প্ল্যাটিনাম গহনা আমদানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময় নেওয়া হয়েছে, যখন এই খাতটি বিশ্বব্যাপী দুর্বল চাহিদার মুখোমুখি হচ্ছে। রত্ন ও জুয়েলারী রপ্তানি উন্নয়ন কাউন্সিল বা GJEPC (Gem & Jewellery Export Promotion Council) এর বাণিজ্য তথ্য দেখায় যে ভারতের রত্ন ও জুয়েলারী খাতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তীব্র সংকোচন রেকর্ড করেছে। মোট রপ্তানি বার্ষিক ভিত্তিতে ৩০.৫৭% কমে ২.১৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে আমদানি ১৯.২% কমে ১.২৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এই পতন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলিতে চাহিদার হ্রাস, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার মন্থরতা এবং ভারতীয় গয়নার উপর সাম্প্রতিক মার্কিন শুল্কের প্রভাবকে প্রতিফলিত করে। এছাড়া মুদ্রার ওঠানামা এবং সোনা ও হীরার দামের উচ্চতর প্রভাবও লেনদেনের পরিমাণকে প্রভাবিত করেছে। চলতি অর্থবছরের এই পর্যন্ত জুয়েলারি আমদানিতে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর, ২০২৫) ভারতের মোট আমদানি ১০,৫৯০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছিল। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধের ৯,৯২১ মিলিয়ন ডলারের আমদানি থেকে ৬.৭৪% বেশি। অবশ্য ফিনিসড জুয়েলারি আমদানি তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফিনিসড জুয়েলারির মোট আমদানি ২৬.১৬% হ্রাস পেয়েছে একই সময় দিয়ে ১,১৩৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা এক বছর আগে একই সময় ১,৫৩৬ মিলিয়ন ডলার ছিল।
এদিকে কাঁচামাল (raw materials)-এর মধ্যে সোনা ও রুপোর কর আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে সোনা কর আমদানি ৮৭.৭৬% বেড়ে ২,৪৯৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং রুপোর কর আমদানি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৮৩.৬৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে তৈরি সোনার গয়না (Finished Gold Jewellery) আমদানি ৫১.৬০% কমে ৩৫৮.৩১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যেখানে তৈরি রুপোর গয়নায় আমদানি বেড়ে ৮৫.৬৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। শিল্প কর্মকর্তারা (Industry Executives) আশা করছেন যে আসন্ন দেশীয় বিবাহ মরশুমের কারণে আগামী মাসগুলিতে সোনার তৈরি গয়নার আমদানি এবং অর্ডার দুইই বৃদ্ধি পাবে।




