Article By – সুনন্দা সেন

ভারত আবারও প্রতিবেশী দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিল। এবার ভারত অনুমোদন করেছে মালদ্বীপকে প্রায় ৩০ বিলিয়ন বা ৩,০০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা, যা দেওয়া হচ্ছে SAARC (South Asian Association for Regional Cooperation) কারেন্সি সোয়াপ ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মালদ্বীপ ভারতীয় রুপি ভিত্তিক এই স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে তার বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটাতে এবং অর্থনৈতিক চাপ কমাতে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই সহায়তা মূলত মালদ্বীপের ফরেন এক্সচেঞ্জ সংকট মোকাবিলা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং সাগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য দেওয়া হচ্ছে। এই সুবিধাটি ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) পরিচালিত SAARC মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা (২০২৪-২৭) কর্মসূচির অংশ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো প্রয়োজনে একে অপরের কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদি মুদ্রা সহায়তা নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মালদ্বীপের মতো ছোট অর্থনীতির জন্য এই ধরনের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি হলে আমদানি ও পর্যটন খাতে বড় চাপ তৈরি হয়।
এই আর্থিক সহায়তা শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং কূটনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভারতের এলাকাভিত্তিক অগ্রাধিকার নীতি বা Neighbourhood First Policy-কে আরও শক্তিশালী করছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতা বাড়ানোর একটি আঞ্চলিক সংগঠন। যদিও রাজনৈতিক কারণে এর কার্যক্রম কিছুটা সীমিত হয়েছে, তবে আর্থিক সহযোগিতার এই ধরনের উদ্যোগ এখনও চালু রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ঠ হলো যে, ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।




