Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের রুপির ওপর যখন আমদানি ব্যয়, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার চাপ বাড়ছে, তখন দেশের IT পরিষেবা রপ্তানি, নতুন করে অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ভারতের সফ্টওয়্যার ও IT পরিষেবা খাত বছরে প্রায় ১৩৮ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশীক মুদ্রা আয় করছে। যা রুপির বড় সাপোর্ট হিসেবে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশী বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার ফলে রুপির ওপর চাপ তৈরি হলেও IT রপ্তানি সেই ঘাটতি অনেকটাই সামাল দিচ্ছে।
বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বড় বড় সংস্থাগুলির ডিজিটাল পরিষেবার চাহিদা ভারতের জন্য ধারাবাহিক ডলার প্রবাহ নিশ্চিত করছে। বর্তমানে ভারতের পণ্য রপ্তানি নানা আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইলেকট্রনিক্স আমদানি দ্রুত বাড়ছে, আবার বিশ্ব অর্থনীতির ধীরগতির কারণে উৎপাদন খাতও চাপে। এই পরিস্থিতিতে পরিষেবা রপ্তানি, বিশেষ করে সফটওয়্যার সেক্টর, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে বড় ভূমিকা নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি IT পরিষেবা রপ্তানি এই গতি বজায় রাখতে পারে, তাহলে রুপির আরও বড় পতনের সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে। কারণ এই খাত নিয়মিত ডলার আয় করে দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এই খাত কর্মসংস্থান, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং ডিজিটাল অবকাঠামোতেও বড় প্রভাব ফেলছে। ভারতের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং সাইবার সিকিউরিটি পরিষেবার মাধ্যমে নতুন বাজার দখলের চেষ্টা করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী কয়েক বছরে যদি বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্যয় বাড়তে থাকে, তাহলে ভারতের IT রপ্তানি আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং সেটাই রুপিকে বড় সুরক্ষা দেবে।




