Article By – সুনন্দা সেন

ভারতীয় রুপির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। আজ (২০মে, ২০২৬) ডলারের বিপরীতে রুপির মান নেমে যায় রেকর্ড নিম্নস্তরে। যার ফলে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয় ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক RBI বা রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া। আসলে বিশ্বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি, মার্কিন বন্ডের ইয়েল্ড বৃদ্ধি এবং ইরানকে ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। আর এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে বৈশ্বিক শেয়ার বাজার সহ ভারতীয় মার্কেটের ওপর।
জানা যাচ্ছে যে উক্ত কারণগুলির জন্য এমেজিং মার্কেট মুদ্রাগুলির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে ভারতীয় রুপিও রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ডলারের বিপরীতে রুপি প্রায় ৯৬.৯৬-এর স্তর পর্যন্ত নেমে যায়। যার পর বাজারে অতিরিক্ত অস্থিরতা কমাতে RBI সরকারি ব্যাংকগুলির মাধ্যমে ডলার বিক্রি করার মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করেছে বলে ট্রেডারদের ধারণা। আবার বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হল অপরিশোধিত তেলের দাম।
আসলে ভারত তার মোট ক্রড অয়েলের চাহিদার বড় অংশ আমদানি করার সাথে পূরণ করে। ফলে তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়, বাণিজ্য ঘাটতি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ একসঙ্গে বেড়ে যায়। এদিকে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক অর্থ প্রত্যাহার ও শেয়ার বাজার ও রুপির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ২০২৬ সালের এই পর্যন্ত বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার প্রত্যাহার করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী তার নেতিবাচক প্রভাবও দায়ি রুপির লাগাতার পতনে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যা ভারতের মতো বড় তেল আমদানিকারক দেশের জন্য বড় চাপ তৈরি করবে। তেলের দাম বাড়লে ভারতকে বেশি ডলারে আমদানি করতে হয়, ফলে ডলারের চাহিদা বেড়ে রুপি আরও দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন বন্ডের উচ্চ ফলন ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা emerging market থেকে অর্থ সরিয়ে নিতে পারেন, যা ভারতীয় শেয়ারবাজার ও রুপির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।




