Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের অর্থনীতিতে একসঙ্গে সামনে এসেছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় – মুদ্রাস্ফীতির চাপ, রপ্তানির কৌশলে পরিবর্তন এবং পরিষেবা খাতের উৎপাদন আরও নির্ভুলভাবে পরিমাপ। জুন মাসে খুচরা বা রিটেইল মূল্যস্ফীতি আবারও রিজার্ভ ব্যাংকের ৪%-এর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, বিশেষ করে সবজি, ডাল এবং কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিই এর মূল কারণ। এছাড়া মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ বাড়ে এবং সঞ্চয়ের ওপরও চাপ পড়বে।
আবার এদিকে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা, শুল্কনীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ভারত এখন রপ্তানি বাজারকে আরও বৈচিত্র্যময় করার পথে হাঁটছে। সাথে শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের ওপর নির্ভর না করে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো উদীয়মান বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশল সফল হলে ভারতের রপ্তানি আরও স্থিতিশীল হবে। এছাড়া কোন এক বাজারে সমস্যা দেখা দিলেও অন্য বাজার থেকে ব্যবসার সুযোগ বজায় থাকবে। একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিও নতুন ক্রেতা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
ভারতের জিডিপিতে (GDP-তে) পরিষেবা খাতের অবদান ৫০%-এরও বেশি। তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংকিং, হেলথকেয়ার, শিক্ষা, পর্যটন, পরিবহন এবং আর্থিক পরিষেবা এই খাতের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু উৎপাদন শিল্পের মতো পরিষেবা খাতের উৎপাদন পরিমাপের জন্য এতদিন কোনো বিস্তৃত সূচক ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ও পরিসংখ্যান সংস্থাগুলি (Statistical agencies) পরিষেবা খাতের কার্যক্রম আরও নির্ভুলভাবে ট্র্যাক করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও শিল্প সংস্থারাও পরিষেবা খাতের বাস্তব প্রবৃদ্ধির স্পষ্ট চিত্র পাবেন।
এই তিনটি বিষয় ভারতের অর্থনীতির ভবিষ্যতের (The Future of India’s Economy) জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদকে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নতুন রপ্তানি বাজার দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। আর পরিষেবা খাতের উৎাদন নিয়মিত পরিমাপ করা গেলে অর্তনৈতিক নীতি প্রণয়ন (Economic Policy Formulation) আরও কার্যকর হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়বে।




