Article By – সুনন্দা সেন

ভারত ও ভুটান জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ৪,০০০ কোটি টাকার একটি কনসেশনাল লাইন অফ ক্রেডিট (Concessional Line of Credit) বা স্বল্পসুদের ঋণচুক্তি স্বাগত জানিয়েছে। চলতি বছর (২০২৬ সাল)- এর ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর ভুটান সফরের সময় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতিতে এই চুক্তিকে দুই দেশের শক্তি সহযোগিতার বা পাওয়ার সাপ্লাইয়ের হেল্পের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়। ভুটানের সরকারি বিবৃতিতেও ৪,০০০ কোটি টাকার এই ক্রেডিট লাইন (Line of Credit)-এর কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভুটানের এনার্জি পরিকল্পনা (energy projects), বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামোর উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। ভারত ও ভুটানের বিদ্যুৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই ১,০২০ মেগাওয়াটের পুনাটসাংচু-২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প (Punatsangchhu-II Hydroelectric Project) চালু হয়েছে এবং ১,২০০ মেগাওয়াটের পুনাটসাংচু-১ (Punatsangchhu-I) প্রকল্পের বাঁধ নির্মাণের কাজও ফের শুরু হয়েছে। ব্যবসায়িক দিক থেকে এই চুক্তির গুরুত্ব যথেষ্ট। ভুটানের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়লে ভবিষ্যতে ভারত-ভুটানের বিদ্যুৎ বাণিজ্য আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
একইসঙ্গে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য ভুটানের পরিকাঠামো (infrastructure) ও হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প (hydropower projects)-এ অংশগ্রহণের ক্ষেত্রও প্রসারিত হতে পারে। ভারতের পক্ষ থেকে ভুটানের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ১৩তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (Five-Year Plan)-এর বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে। শুধু বিদ্যুৎ নয়, জয়শঙ্করের সফরে আন্তঃসীমান্ত সংযোগ, বাণিজ্য ও ট্রানজিট, ডিজিটাল পেমেন্ট (cross-border connectivity, trade and transit, digital payments) এবং গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি (Gelephu Mindfulness City) নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ভারত হাতিসার (Hatisar)-এ একটি অভিবাসন চেক পোস্ট (Immigration Check Post) তৈরির প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা গেলেফু (Gelephu)-র সঙ্গে যোগাযোগ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আর ভারত-ভুটান সম্পর্কের ক্ষেত্রে ৪,০০০ কোটি টাকার ক্রেডিট লাইন শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি জলবিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকাঠামোকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ। ভুটানের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়লে ভারত ভবিষ্যতে আরও বেশি জলবিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে, পাশাপাশি সীমান্তবর্তী পরিকাঠামো ও বাণিজ্যিক সংযোগও বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।




