Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের খেলনা ইন্ডাস্ট্রিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। একসময় সস্তা চিনা খেলনার দাপটে দেশের বাজারে পিছিয়ে ছিল ভারতীয় নির্মাতারা। কিন্তু বাড়তি আমদানি শুল্ক, কঠোর গুণমানের মানদণ্ড এবং সরকারি সহায়তার ফলে এখন দেশীয় খেলনা উৎপাদন শক্তিশালী হয়েছে। এবার সেই সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববাজারে বড় অংশ দখলের লক্ষ্য নিয়েছে ভারত। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে খেলনা, গেমস ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি ৩৭.৫% কমেছে।
একই সময়ে রপ্তানি বেড়েছে ৮৯.১% বা ২০৩.৫ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩৮৪.৭ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর এই পরিবর্তনের পিছনে অন্যতম বড় পদক্ষেপ ছিল খেলনার উপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক BIS সার্টিফিকেশন। ২০১৯ সালে বাজারে মাত্র ৩৩% খেলনা (Toys) নির্ধারিত মান পূরণ করেছিল। ২০২৫ সালের BIS সমীক্ষায় সেই হার বেড়ে ৯৫% হয়েছে। তাই এবার লক্ষ্য শুধু ভারতের বাজার নয়। ভারত ২০৩২ সালের মধ্যে বিশ্ব খেলনা বাজারে নিজের অংশ ১%- এরও কম থেকে বাড়িয়ে ৫% করার পরিকল্পনা করছে।
আর আমেরিকা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া ও পোল্যান্ডের মতো দেশকে সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সামনে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ভারতের খেলনা শিল্প এখনও অনেকটাই ছোট ও খণ্ডিত সংস্থার উপর নির্ভরশীল। চিনের মতো বড় উৎপাদন ক্লাস্টার, দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিপুল মাত্রার উৎপাদন ক্ষমতা ভারতে এখনও তৈরি হয়নি। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, মোল্ড ও কিছু বিশেষ উপকরণের জন্য চিনের উপর নির্ভরতাও রয়েছে।
তাই শুধু ‘মেড ইন ইন্ডিয়া (Made in India)’ নয়, এবার ‘ ডিজাইনড ইন ইন্ডিয়া (Designed in India)’ এবং নিজস্ব ব্র্যান্ড ও ক্যারেক্টার তৈরির দিকেও যেতে চাইছে শিল্পমহল বা Industrial area। অর্থাৎ ভারতের লক্ষ্য শুধু চিনের খেলনাকে সরিয়ে দেওয়া নয়; বর্তমানে ভারতীয় খেলনাকে বিশ্ববাজারে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই মূল লক্ষ্য।




