Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের অর্থনীতি ফের শক্তিশালী বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিক, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুনে দেশের প্রকৃত GDP বা মোট দেশজ উৎপাদন ৭.৮% বেড়েছে। বাজারের অর্থনীতিবিদদের গড় পূর্বাভাস ছিল ৭.১%, আর RBI-এর পূর্বাভাস ছিল ৭%। অর্থাৎ প্রত্যাশার তুলনায় যথেষ্ট ভালো ফল এসেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল-জুনে ভারতের আসল GDP (Real GDP) দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮১.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা, যা এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ৭৫.৪৬ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অর্থনীতির আকারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। একই সময়ে নমিনাল GDP বেড়েছে ১০.৩%।
এই বৃদ্ধির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি ছিল শিল্প ও বিনিয়োগ। উৎপাদন সেক্টরের বৃদ্ধি হয়েছে ৯.২%, আর ফিনান্সিয়াল সার্ভিস সেক্টর বেড়েছে প্রায় ১২.১%। পাশাপাশি মোট বিনিয়োগও প্রায় ১২% বেড়েছে। ব্যক্তিগত ভোগব্যয় বা কনসামশানও ৭.১% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। GDP-এর পাশাপাশি GVA (Gross Value Added) বেড়েছে ৮.২%। যার অর্থ, কর ও ভর্তুকির প্রভাব বাদ দিয়ে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও শক্তিশালী গতিতে এগিয়েছে। উৎপাদন, আর্থিক পরিষেবা এবং বিনিয়োগের মতো ক্ষেত্রগুলির পারফরম্যান্স অর্থনীতির ভিতকে আরও মজবুত করেছে।
তবে সব ক্ষেত্র সমান গতিতে বাড়েনি। মাইনিং এবং কিছু গ্রাহক-কেন্দ্রিক পরিষেবা তুলনামূলক দুর্বল ছিল। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানির দাম এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আগামী দিনে ভারতের কর্পোরেট বিনিয়োগ ও বৃদ্ধির উপর চাপ তৈরি করতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন। তবুও সামগ্রিক ছবি বেশ ইতিবাচক। অর্থনীতির মতে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়তে থাকা ব্যক্তিগত বিনিয়োগ, উৎপাদনের গতি এবং পরিষেবা খাতের ভালো পারফরম্যান্স বৃদ্ধির পথে রয়েছে। অর্থাৎ, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ৭.৮% GDP প্রবৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা (resilience) বা ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।




