Article By – সুনন্দা সেন

আগস্ট মাসে আফ্রিকায় ডিজেল সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আফ্রিকার ক্রেতারা এখন এশিয়ার দিকে বেশি ঝুঁকছেন। এর ফলে এশিয়া থেকে আফ্রিকায় ডিজেল রপ্তানি অন্তত সাড়ে চার বছরের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পথে। জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্য সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে এশিয়া, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে। আফ্রিকায় প্রায় ১.৮ থেকে ২ মিলিয়ন টন ডিজেল পাঠাতে পারে। অর্থাৎ প্রায় ১৩.৪ থেকে ১৪.৯ মিলিয়ন ব্যারেল ডিজেল আফ্রিকার বাজারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আফ্রিকায় ডিজেল রপ্তানি আগস্টে নেমে এসেছে মাত্র ৬ থেকে ৮ লাখ টনে, যা প্রায় ন’বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর আফ্রিকার ডিজেল আমদানির প্রায় ৫০% মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসেছিল এবং তার বড় অংশ ছিল সৌদি আরবের সরবরাহ। আর এই সরবরাহ পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি। বাব-এল-মান্দেব (Bab-el-Mandeb) ও হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় অনেক জাহাজকে বিকল্প রুট ও সরবরাহ উৎস বেছে নিতে হচ্ছে।
পাশাপাশি সৌদি আরবের জাজান রিফাইনারির উৎপাদন ও রপ্তানিতেও প্রভাব পড়েছে। আগস্টে জাজান থেকে আফ্রিকায় ডিজেল পাঠানো শূন্যে নেমেছে, যেখানে জুলাইয়ে তা ছিল ১.৬৩ লক্ষ টন। এই পরিস্থিতিতে ভারতসহ এশিয়ার রিফাইনারিগুলির জন্য আফ্রিকার বাজার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগস্টে এশিয়ার ডিজেল রিফাইনিং মার্জিন ব্যারেল প্রতি গড়ে ৬৬ ডলার, যা জুলাইয়ের ৬১ ডলারের তুলনায় বেশি। ফলে রিফাইনারিগুলি উৎপাদন বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি ডিজেল পাঠাতে উৎসাহিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আফ্রিকায় জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলিকে আরও বেশি সময় এশিয়া থেকে ডিজেল আমদানি করতে হতে পারে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক পরিস্থিতি শুধু জ্বালানি সরবরাহের পথ বদলাচ্ছে না, বরং ভারত ও অন্যান্য এশীয় রিফাইনারির জন্য আফ্রিকার বাজারে নতুন রপ্তানি সুযোগও তৈরি করছে।




