Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের আমদানি ব্যয়ের বড় অংশ এখন নির্ভর করছে মাত্র চারটি পণ্যের ওপর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অপরিশোধিত তেল, সোনা, এডিবেল অয়েল এবং সার আমদানিতে ভারতের খরচ হয়েছে ২৪০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু অর্থনীতির জন্য নয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বাণিজ্য ঘাটতির ওপরও বড় চাপ তৈরি করেছে। তথ্য অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ভারতের খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৪.৭ বিলিয়ন ডলার। সোনা আমদানিতে রেকর্ড ৭২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। ভোজ্য তেলে খরচ হয়েছে প্রায় ১৯.৫ বিলিয়ন ডলার। এই চারটি পণ্য দেশের মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে জ্বালানি অপচয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা এড়ানো, রান্নার তেলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের আমদানি ব্যয়ের ওপর।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেই দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়। একইভাবে সোনা আমদানিও এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ভারতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সোনা কেনা হয় এবং দেশের ব্যবহৃত সোনার ৯০%- এরও বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সোনা একাই ভারতের মোট আমদানির প্রায় ৯% দখল করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, অতিরিক্ত সোনা আমদানি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে, কারণ এর জন্য বিপুল পরিমাণ ডলার বিদেশে চলে যায়।
ভোজ্য তেল এবং সারের ক্ষেত্রেও ভারত এখনও অনেকটাই আমদানিনির্ভর। পাম অয়েল ও সূর্যমুখী তেলের বা সানফ্লাওয়ার অয়েল মতো পণ্যের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরতা রয়ে গেছে। কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক সারও বিপুল পরিমাণে আমদানি করতে হয়। তাই সরকার এখন দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং বিকল্প ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের মাধ্যমে এই নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানি বিল বাড়লে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পায়, ডলারের চাহিদা বেড়ে টাকার ওপর চাপ পড়ে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কমতে পারে। তাই এই চারটি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমানো এখন সরকারের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতির জন্য জ্বালানি, সোনা, খাদ্যতেল ও সারের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু একই সঙ্গে বাড়ছে বিদেশের ওপর নির্ভরতাও। এখন বড় প্রশ্ন, দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে এবং সচেতন ব্যবহার নিশ্চিত করে ভারত কত দ্রুত এই আমদানি চাপ কমাতে পারে। অর্থনীতির ভবিষ্যতের জন্য সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।




