Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলতে থাকা অচলাবস্থা, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ভারতীয় রুপির উপর। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাজারে সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করেছে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায়, তেলের দাম বাড়লে সরাসরি আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। এর ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং রুপির উপর চাপ তৈরি হয়। বাজার খোলার পর ডলারের তুলনায় রুপির দর দ্রুত দুর্বল হতে শুরু করে। ট্রেডারদের একাংশ মনে করছেন, যদি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, তাহলে রুপি ঐতিহাসিক নিম্নস্তরের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে RBI রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির মাধ্যমে বাজারে ডলার বিক্রি করে রুপিকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জ্বালানি সাশ্রয় ও শক্তি নিরাপত্তা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। বাজারের একাংশ সেই বক্তব্যকে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে এবং বিদেশি তহবিলের একটি অংশ নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকেছে। তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়, তাহলে রুপির উপর চাপও ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রুপির দুর্বলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের আমদানি খরচ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে পেট্রোল, ডিজেল, সার এবং শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়তে পারে, কারণ মূল্যস্ফীতির চাপ আবার বাড়তে পারে। তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার এখনও তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং RBI-এর কাছে বাজারে হস্তক্ষেপ করার পর্যাপ্ত সক্ষমতা আছে।




