Article By – সুনন্দা সেন

যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারতের কাছে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বা ক্রড নেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। এমন এক সময়ে যখন ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি ধীরে ধীরে কমছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য হলো ভারতকে রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে উৎসাহিত করা এবং একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল বিক্রি থেকে আসা আয় কমানো। যা ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থ জোগানে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে ভারত বড় ছাড়ে রাশিয়ার তেল কিনতে শুরু করেছিল। এর ফলে রাশিয়া ভারতের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী হয়ে ওঠে। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।
সূত্র বলছে, জানুয়ারি, ২০২৬ -এ ভারতে রাশিয়ার তেল আমদানি ছিল দৈনিক প্রায় ১২ লক্ষ ব্যারেল। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে এই পরিমাণ আরও কমতে পারে এবং আগামী কয়েক মাসে তা দৈনিক ৫ থেকে ৬ লক্ষ ব্যারেলে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতেই US চাইছে, ভারত যেন বিকল্প উৎস হিসেবে ভেনেজুয়েলার তেলের দিকে নজর দেয়। ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেজিষ্টার তেল ভান্ডার থাকলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানিতে সমস্যায় ছিল। আগে ভারত ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি করলেও নিষেধাজ্ঞার জেরে তা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
অবশ্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সেই নীতি আংশিকভাবে শিথিল করার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যাতে ভারত ভেনেজুয়েলার তেল কিনতে আগ্রহী হয় এবং একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ে। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন সহজ নয়। ভেনেজুয়েলার তেল সাধারণত ভারী প্রকৃতির, যা পরিশোধনের জন্য বিশেষ ধরনের রিফাইনারি প্রয়োজন। ভারতের সব রিফাইনারিতে এই ধরনের তেল প্রক্রিয়াকরণের সুবিধা নেই। ফলে, বিশেষ করে সরকারি তেল সংস্থাগুলিকে প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তাছাড়া, দূরত্ব বেশি হওয়ায় পরিবহণ খরচও তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। এই কারণেই বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল ভারতের আমদানি মিশ্রণে প্রবেশ করলেও তা ধীরে ধীরে হবে। আর ভারতের দিক থেকে দেখা গেলে, দেশটি এখন তেল আমদানিতে বৈচিত্র আনার কৌশল নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে তেল সংগ্রহ করে ঝুঁকি কমাতে চাইছে নয়াদিল্লি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব সেই কৌশলের সঙ্গে কিছুটা হলেও মানানসই। একই সঙ্গে, রাশিয়ার তেল আমদানি কমালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা




