Article By – সুনন্দা সেন

ভারত এখন শুধু স্মার্টফোন জোড়া লাগানোর দেশ হয়ে থাকতে চাইছে না। লক্ষ্য আরও বড় — এবার ফোনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও দেশেই তৈরি করতে চায় কেন্দ্র সরকার। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আনা হচ্ছে নতুন PLI 2.0 বা Production Linked Incentive স্কিম। এতদিন ভারতে তৈরি হওয়া অধিকাংশ স্মার্টফোনে ডিসপ্লে, ক্যামেরা মডিউল, সেমিকন্ডাক্টর চিপ কিংবা ব্যাটারির মতো দামি যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। ফলে ফোনে “Made in India” লেখা থাকলেও, আসল প্রযুক্তিগত মূল্য সংযোজন ছিল তুলনামূলক কম। কিন্তু এবার সেই ছবিটাই বদলাতে চাইছে সরকার।
কেন্দ্র সরকার চাইছে আগামী কয়েক বছরে স্মার্টফোন উৎপাদনে ভারতের স্থানীয় মূল্য সংযোজন ২০% থেকে বাড়িয়ে ৫০%- এরও বেশি করা হোক। অর্থাৎ ফোনের অর্ধেকের বেশি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভারতেই তৈরি হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আনা হচ্ছে প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকার ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিম (Electronic Component Manufacturing Scheme)। আর এই স্কিমের মাধ্যমে দেশে নতুন নতুন ইলেকট্রনিক্স ও কম্পোনেন্ট কারখানা গড়ে তোলার জন্য বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারে অ্যাপল (Apple), স্যামসাং (Samsung), ফক্সকন (Foxconn) এবং Tata Electronics (টাটা ইলেকট্রনিক্স)-এর মতো বড় সংস্থাগুলি। কারণ সরকার এখন এমন কোম্পানিকেই বেশি উৎসাহ দিতে চাইছে, যারা শুধু ফোন অ্যাসেম্বল করবে না, বরং ভারতের মধ্যেই সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরি করবে। আসলে একসময় ভারত শুধু বিদেশি প্রযুক্তির বাজার ছিল। এখন সেই ভারতই বিশ্বের জন্য প্রযুক্তি তৈরি করার স্বপ্ন দেখছে। “মেড ইন ইন্ডিয়া” থেকে “বিল্ট ইন ইন্ডিয়া” — এই পরিবর্তন সফল হলে, তা শুধু শিল্প নয়, ভারতের অর্থনীতির ভবিষ্যৎও বদলে দিতে পারে।
এদিকে দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পরে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চীনের বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র খুঁজছে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি। সেই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চাইছে ভারত।গত কয়েক বছরে ভারতের স্মার্টফোন রপ্তানি দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে iPhone উৎপাদনে ভারত এখন আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ভারত সফলভাবে চিপ, ডিসপ্লে ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ উৎপাদন বাড়াতে পারে, তাহলে আগামী দশকে দেশ বিশ্বের অন্যতম বড় ইলেকট্রনিক্স হাব হয়ে উঠতে পারে।




