Article By – সুনন্দা সেন

সম্প্রতি জানা যাচ্ছে যে ফক্সকনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউজান টেকনোলজি তাদের ভারতীয় অপারেশন থেকে প্রায় ১০০ চীনা ইঞ্জিনিয়ারকে ফেরত পাঠিয়েছে। কিছু মাসের মধ্যেই এটি দ্বিতীয়বারের মতো ঘটনার পুনঃরাবৃত্তি ঘটেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, ইঞ্জিনিয়াররা তামিলনাড়ুতে একটি ডিসপ্লে মডিউল অ্যাসেম্বলি ফ্যাসিলিটির কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিল। যেখানে ইউজান ১৩,১৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। আর এই ইউনিটটি ভারতের আইফোন উৎপাদন কেন্দ্র সম্প্রসারণের কাজে ফক্সকনের একটি বৃহত্তম কৌশলের অংশ। প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যাচ্ছে যে চীনা কর্তৃপক্ষ ফক্সকনের চেয়ারম্যান ইয়ং লিউকে ভারতে তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে।
কোভিডের জন্য লকডাউন হওয়ার ফলে চীনা সরবরাহ শৃঙ্খল বাধা পায়। সেই প্রথম ফক্সকন তার সরবরাহ চেনে বৈচিত্র্য আনার জন্য ভারতে তার ব্যবসা সম্প্রসারণের সীদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যারপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবার সরকারে ফিরে আশায় আমেরিকা ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ বৃদ্ধি পায়, এই সুযোগে কোম্পানি ভারতে তার বিস্তার ক্রমবর্ধমানে বাড়ানো উদ্দেশ্যে একাধিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করে। তবে সম্প্রতি অ্যাপলের ভারতে স্থানান্তর নিয়ে চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US) উভয়েরই ক্ষোভের কারণ হয়ে উঠেছে। একদিকে চীন উৎপাদন স্থানান্তরের প্রক্রিয়া কঠোর করেছে, অন্যদিকে ট্রাম্প উৎপাদন আমেরিকায় পুনরায় চালু করার জন্য ফক্সকনকে চাপ দিচ্ছেন। অবশ্য ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক আরোপ করায় চীন, ভারত তার কূটনৈতিক সম্পর্ক ঠিক করার প্রচেষ্টায় রয়েছে।
এই প্রতিকূল পরিস্থিতির সত্ত্বেও অ্যাপলের জন্য ফক্সকন ভারতের বাজারকে বেছে নিয়েছে। আর চীন থেকে ব্যবসা ত্বরান্বিত করার জন্য ইউজান প্রযুক্তিতে ১.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এমনকি বর্তমানে ভারতে প্রায় ২০% আইফোন তৈরি হয়। যা ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতের ক্ষেত্রে ২৬% থেকে ৫০%-এর মধ্যে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করার জন্য এই মাসের শুরুতে অ্যাপল মার্কিন উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে। যার ফলে ভারতের উপর এই নেতিবাচক পড়তে পারে, সাথে চীনা ইঞ্জিনিয়ারকে প্রত্যাহারের কারণে ভারতীয় উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে বা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।




