Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের অর্থনীতিতে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির গতি শক্তিশালী থাকলেও দেশের ম্যানুফ্যাকচারিং বা ফ্যাক্টরি খাতে আগস্ট মাসে দেখা গেল বড়সড় মন্থরতা। নতুন PMI তথ্য বলছে, দুর্বল চাহিদা, প্রতিযোগিতার চাপ এবং বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে আগস্টে ভারতের ফ্যাক্টরি এক্টিভিটিস পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতিতে বেড়েছে। S&P গ্লোবালের প্রকাশিত HSBC India ম্যানুফ্যাকচারিং PMI অনুযায়ী, আগস্টে ম্যানুফ্যাকচারিং PMI নেমে এসেছে ৫২.৯-এ, যেখানে জুলাই মাসে এই সূচক ছিল ৫৩.৫। আগস্টের এই রিডিং ২০২১ সালের আগস্টের পর সর্বনিম্ন। অর্থাৎ টানা তৃতীয় মাসে ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের বৃদ্ধির গতি কমল।
৫২.৯- এর স্তর মানে ভারতীয় ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর এখনও সংকোচনের পর্যায়ে যায়নি। তবে আগের তুলনায় বৃদ্ধির গতি অনেকটাই কমেছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল চাহিদা। আগস্টে নতুন অর্ডার এবং ফ্যাক্টরি আউটপুট—দুটিই বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতিতে। সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে কঠিন বাজার পরিস্থিতি, বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতা এবং গ্রাহকদের কম চাহিদাকে বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি অর্ডারের বৃদ্ধির গতিও জুলাইয়ের তুলনায় কমেছে। আর এই দুর্বলতার প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানেও। আগস্টে ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে দুই বছর ছয় মাসের মধ্যে প্রথমবার কর্মীর সংখ্যা কমেছে।
অন্যদিকে, ব্যবসার খরচের চাপ কিছুটা কমেছে। আগস্টে ইনপুট ব্যয়ের মুদ্রাস্ফীতি (input cost inflation) সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। কিন্তু সংস্থাগুলি সেই সুবিধা পুরোপুরি ক্রেতাদের দেয়নি। বরং উৎপাদন ও অন্যান্য খরচ সামলাতে তারা বিক্রি মূল্য বাড়িয়েছে, যার ফলে পণ্যের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তবে ভারতের পুরো প্রাইভেট সেক্টরের ছবিটা ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো দুর্বল নয়। আগস্টে পরিষেবা খাত (services sector)-এর কার্যকলাপ কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মন্থরতা সামলে সামগ্রিক প্রাইভেট সেক্টর এক্টিভিটি সামান্য বেড়েছে। অর্থাৎ এই মুহূর্তে ভারতের অর্থনীতির বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠছে পরিষেবা খাত।
এমন অবস্থায় আরও বলা হচ্ছে, ভারতের GDP যদি শক্তিশালী গতিতে বাড়তে থাকে, তাহলে ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের এই মন্থরতা কতটা উদ্বেগের? সম্প্রতি এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতের GDP ৭.৮% বেড়েছে এবং ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরও ওই সময়ে ৯.২% বৃদ্ধি দেখিয়েছিল। কিন্তু আগস্টের PMI দেখাচ্ছে, পরবর্তী সময়ে ফ্যাক্টরি ইন্ডাস্ট্রির ডিমান্ডের গতি কিছুটা কমেছে। তাই বিশেষজ্ঞদের নজর এখন থাকবে আগামী কয়েক মাসে নতুন অর্ডার, উৎপাদন, এমপ্লয়মেন্ট এবং কনজিউমার ডিমান্ড কীভাবে এগোয় তার দিকে। যদি চাহিদা দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়, তাহলে ম্যানুফ্যাকচারিং আবার গতি পেতে পারে। কিন্তু দুর্বল ডিমান্ড দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শিল্প উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।




