Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। ২০২৫ সালে ভারতের ইলেকট্রনিক্স রপ্তানির পরিমাণ ৪ লক্ষ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। যা দেশের রপ্তানি ইতিহাসে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি সূত্র ও শিল্প মহলের মতে, এই প্রবৃদ্ধি ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা বা PLI স্কিমের সরাসরি ফলাফল। গত কয়েক বছরে স্মার্টফোন মোবাইল যন্ত্রাংশ, সেমিকন্ডাক্টর-সংক্রান্ত পণ্য, কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইলেকট্রনিক্সের উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে স্মার্টফোন রপ্তানি ইলেকট্রনিক্স রপ্তানির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। অ্যাপলসহ একাধিক বৈশ্বিক সংস্থার উৎপাদন ভারতে স্থানান্তরিত হওয়ায় রপ্তানি দ্রুত বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে যেখানে ভারত ইলেকট্রনিক্স পণ্যের জন্য আমদানির উপর অনেকটাই নির্ভরশীল ছিল। যেখানে এখন দেশটি ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা থেকে আয়ের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ভারতের ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাসস্ট্রির জন্য শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি দেশের উৎপাদন ক্ষমতা, বৈশ্বিক আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার শক্তিশালী ইঙ্গিত।
এছাড়া এই রপ্তানি বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব কর্মসংস্থান পড়েছে বলেও বিশেষজ্ঞদের মতামত। তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ (UP) ও অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে ওঠায় হাজার হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী হওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ও ইন্ডাস্ট্রিগুলিও এই বৃদ্ধির সুফল পাচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, আগামী দিনে ইলেকট্রনিক্স রপ্তানিকে আরও বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির উপর জোর দেওয়া হবে। আর লক্ষ্য হল ভারতকে একটি বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।




