Article By – সুনন্দা সেন

ভারত বিশ্বজুড়ে বড় বড় সংস্থাকে দেশে কারখানা গড়ে তুলতে এবং উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে দেশের কঠোর BIS (Bureau of Indian Standards) সার্টিফিকেশন এবং QCO (Quality Control Order)-এর নিয়মই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের একাংশের জন্য বড় বাধা হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জাপানি সংস্থাগুলির মধ্যে এই নিয়ে উদ্বেগ বেশি।
GTRI (Global Trade Research Initiative)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে JETRO সমীক্ষায় ভারতে থাকা ৭১.৯% জাপানি নির্মাতা সংস্থা জানিয়েছে, BIS সার্টিফিকেশন তাদের ব্যবসায় প্রভাব ফেলেছে বা ফেলতে পারে। জেনেরাল মেশিনারি সেক্টরে এই হার বেড়ে ৯২.৩%, আর পরিবহন সরঞ্জাম খাত (transportation equipment sector)-এ ৭৬.৮%। সমস্যার মূল জায়গা হচ্ছে certification-এর সময়, খরচ এবং জটিলতা। বিদেশি সংস্থাকে অনেক ক্ষেত্রে পণ্য পরীক্ষা, প্রচুর নথিপত্র এবং এমনকি বিদেশে থাকা কারখানা পরিদর্শনের খরচও বহন করতে হয়।
GTRI জানিয়েছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সংস্থা জটিল প্রক্রিয়াকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হচ্ছে। একটি উদাহরণ হিসেবে GTRI একটি ভিয়েতনামি স্ক্রু প্রস্তুতকারকের কথা তুলে ধরেছে। সংস্থাটি BIS সার্টিফিকেশনের জন্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা টেস্টিংয়ের পেছনে এবং আরও ৪০ লক্ষ টাকা পরামর্শ, পরিদর্শন ও অন্যান্য খরচে ব্যয় করেছিল। তবুও চূড়ান্ত BIS সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। এর প্রভাব পড়ছে ছোট ও মাঝারি সংস্থার উপরও। বিদেশি সাপ্লাইয়রা যদি ভারতীয় বাজারের জন্য আলাদা সার্টিফিকেশন নিতে অনিচ্ছুক হয়, সেক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে সাপ্লায় পরিবর্তন করতে হচ্ছে বা বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজতে হচ্ছে।
JETRO-এর সমীক্ষায় প্রভাবিত সংস্থাগুলির ৪২.৭% ডেলিভারিতে দেরির মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে সরকার ইতিমধ্যেই কিছুটা নিয়ম শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সম্প্রতি জানিয়েছেন, হাই টেক ইন্ডাস্ট্রিরজন্য BIS সার্টিফিকেশনের কিছু বাধ্যতামূলক শর্ত থেকে ছাড় দেওয়ার কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। যার লক্ষ্য, বিশেষ করে জাপানের মতো দেশের হাই টেক কোম্পানিগুলিকে ভারতে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে উৎসাহিত করা।




