Article By – সুনন্দা সেন

ইরান -ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার পর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের গাড়ির বাজার (Car market)-এ। জুন মাসে দেশের যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রিতে বিকল্প জ্বালানি চালিত (Alternative Fuel) গাড়ির বাজার অংশীদারিত্ব ইতিহাসে প্রথমবার ৪০%-এর গন্ডি পেরিয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে বিক্রি হওয়া মোট যাত্রীবাহি গাড়ির (Passenger Cars) ৪০.৩৫% ছিল CNG, হাইব্রিড বা ইলেকট্রিক ভেহিক্যেল (EV) মডেল।
জুন মাসে ভারতে মোট যাত্রীবাহি গাড়ির খুচরা বিক্রি বছরে প্রায় ২৮.৬% বেড়ে ৪.১১ লক্ষ ইউনিট পৌঁছেছে। এর মধ্যে CNG গাড়ির বাজার অংশীদারিত্ব ৭.৮%। একই সঙ্গে ইলেকট্রিক টু-হুইলার ভেহিক্যেলের বিক্রিও নতুন রেকর্ড গড়েছে। যা মোট বিক্রির ১০.৬%-এ পৌঁছেছে। এই প্রবণতা ভারতের অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিকল্প জ্বালানি চালিত গাড়ির চাহিদা বাড়লেও CNG, ব্যাটারি, চার্জিং অবকাঠামো এবং হাইব্রিড টেকনোলজিতে বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
অটোমোবাইল ডিলারদের সংগঠনের মতে, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা এখন বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী (Energy-efficient) বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে CNG গাড়ির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতাদের অন্যতম মারুতি সুজুকি (Maruti Suzuki) জানিয়েছে, তাদের CNG গাড়ির বুকিং প্রায় ৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে জানায় যে ভারত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিচ্ছিন্ন পরিবহন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে শিল্প সংস্থা বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গানাইজেশন FADA (Federation of Automobile Dealers Associations)-এর মতে, এই প্রবণতা ভারতের অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে জ্বালানির বিকল্প ব্যবহারের দিকে দ্রুত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতির প্রভাব পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে এখনও কয়েকটি ত্রৈমাসিক সময় লাগতে পারে এবং এই চাহিদা দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই হবে, তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।




