Article By – সুনন্দা সেন

ভারত বর্তমানে ১৯৯১ সালের মতো বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট বা অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থার মুখোমুখি নয়। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী, ব্যাংকিং ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বিশ্বের দ্রুততম বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে অন্যতম। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এবার অন্য ধরনের একটি চ্যালেঞ্জের ধীরে ধীরে ঘনীভূত হচ্ছে। অবশ্য ভারতের সামনে স্পষ্টভাবে বর্তমানে ১৯৯১ সালের মতো ব্যালান্স অব পেমেন্টস সংকট নেই।
নতুন চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। যা বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, আয় বাড়াবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে। কারণ বর্তমানে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ভারসাম্যের অভাব রয়েছে। অর্থনীতি বাড়লেও পর্যাপ্ত মানসম্মত কর্মসংস্থান জেনারেট হচ্ছে না। এমনকি উৎপাদনশীল খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত গতিতে বাড়ছে না, ফলে কর্মসংস্থান এবং মানুষের আয় বৃদ্ধি গতি সীমিত থাকছে।
এর পাশাপাশি ভোক্তাদের চাহিদায় বৈষম্যও স্পষ্ট হচ্ছে। উচ্চ আয়ের মানুষের ব্যয় বাড়লেও নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ভোগব্যয় তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তা পণ্য, আবাসন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার উপর। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, তেলের দামের ওঠানামা এবং বাণিজ্যিক শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধের মতো বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা ভারতের রপ্তানি ও উৎপাদনেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে সরকারকে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে অবকাঠামো, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে।




