Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে ডিজিটাল পেমেন্টের বিপ্লব এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। UPI-তে লেনদেনের পরিমাণ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ২৪,১৬২ কোটি, আর মোট লেনদেনের মূল্য পৌঁছেছে প্রায় ৩১৪ লক্ষ কোটি টাকা। জুলাই,২০২৬-এ এক মাসেই UPI লেনদেন হয়েছে রেকর্ড ২,৩৬৬ কোটি। কিন্তু এর পাশাপাশি একটি আপাত-বিরোধী ছবিও (Even seemingly contradictory images) দেখা যাচ্ছে। ভারতে CIC (Currency in Circulation) অর্থাৎ সাধারণ মানুষের হাতে থাকা নগদের পরিমাণ কমছে না, বরং দ্রুত বাড়ছে।
RBI-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩১ জুলাই ২০২৬-এ CIC বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪২.৭৬ লক্ষ কোটি টাকা, যা এক বছর আগের তুলনায় ১২.৫% বেশি। তাহলে কি UPI নগদকে প্রতিস্থাপন করতে ব্যর্থ হচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। আসলে UPI এবং নগদ, দুটির ভূমিকা ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। দৈনন্দিন ছোটখাটো পেমেন্ট, অনলাইন কেনাকাটা, বিল মেটানো কিংবা দোকানে দ্রুত টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে UPI মানুষের পছন্দের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কিন্তু নগদ এখনও অনেক ভারতীয় পরিবারের কাছে সঞ্চয় এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য একটি নিরাপদ বিকল্প। বিশেষ করে গ্রাম ও ছোট শহর, ছোট ব্যবসা, কম আয়ের মানুষ এবং বয়স্কদের মধ্যে নগদের গুরুত্ব এখনও যথেষ্ট বেশি।
RBI-এর ডেপুটি গভর্নর শিরীষ চন্দ্র মুর্মুর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিজিটাল পেমেন্ট বাড়লেও গ্রাম ও আধা-শহর, কম আয়ের মানুষ, বয়স্ক জনগোষ্ঠী এবং ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে নগদের ব্যবহার এখনও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, শহরের একজন গ্রাহক হয়তো প্রতিদিন UPI দিয়ে দশটি পেমেন্ট করছেন, কিন্তু দেশের অন্য একটি অংশ এখনও নগদকে বেশি সুবিধাজনক ও নির্ভরযোগ্য মনে করছে। দেশের GDP, আয় এবং ভোগব্যয় বাড়লে অর্থনীতিতে মোট টাকার চাহিদাও বাড়ে। তাই নগদের মোট পরিমাণ বাড়লেই যে মানুষ আগের তুলনায় বেশি নগদে পেমেন্ট করছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বিশেষজ্ঞরা ক্যাশ-টু-GDP-রেশিও (cash-to-GDP ratio)-কে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (FY 25) ভারতের ক্যাশ-টু-GDP-রেশিও নেমে ১১.১% হয়েছে, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছর (FY24)-এর ১১.৫% এবং করোনা সময় অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে (FY21)-এর ক্যাশ-টু-GDP-রেশিও ১৪.৪% পিকে নিচে। গত অর্থবছরে ভারতের প্রচলিত মুদ্রা (Currency in Circulation) বেড়ে প্রায় ৪১.৬ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১.৯% বেশি। একই সময়ে UPI লেনদেনের ভলিউম বেড়েছে প্রায় ৩০% এবং মোট মূল্য বেড়েছে ২০.৬%।




